মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

একাধিক ব্যক্তির ভাতার টাকা গায়েব!

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-১০-২০২১ ইং
একাধিক ব্যক্তির ভাতার টাকা গায়েব!
ঝিনাইদহ অফিস: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বাথপুকুরিয়া গ্রামের একাধিক ব্যক্তির বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধি ভাতার টাকা নগদ একাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার টাকা উদ্ধারের দাবিতে ভুক্তভোগীরা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ স্থানীয় সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল ওহাবের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত রাজন নামে এক কলেজ ছাত্র এই টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন। ডাকবাংলা বাজারের নগদ-এর এজেন্ট হবিবুর রহমানও স্বীকার করেছেন রাজন মাঝেমধ্যে এসে ভাতাভোগীদের টাকা উঠিয়ে নিয়ে যায়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা পুলিশ ফাড়ির এএসআই মাখন বিশ্বাস জানান, ভাতাভোগী নুরুল ইসলাম, ফেরদৌসি খাতুন, নুর আলম ও বাবুল হোসেন ভাতার টাকা না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে বাথপুকুরিয়া গ্রামের প্রায় ৬-৭ জন বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী তাদের ভাতার টাকা পাননি। বিষয়টি প্রযুক্তিগত ও জটিল হওয়ায় তিনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে ভুক্তভোগীদের শনিবার থানায় ডেকে তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়। ভাতাভোগীরা ইউপি মেম্বরের সহযোগী বাথপুকুরিয়া গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে রাজনকে অভিযুক্ত করে বক্তব্য দেন। প্রতিবন্ধী ফেরদৌছি বেগম অভিযোগ করেন, রাজন তাদের বই ও সিমসহ মোবাইল নিয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে একাউন্টে কোনো টাকা নেই। টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে দুই’শ টাকাও নেয় রাজন। একই কথা জানান, বাথপুকুরিয়া গ্রামের বিধবা শামারুপ নেছা, একই গ্রামের আছিয়া বেগম, আমেনা খাতুন, প্রতিবন্ধী নুর আলম ও বাবুল। তাদের ভাষ্য, কলেজছাত্র রাজন টাকা উত্তোলনের কথা বলে নিজেই তাদের টাকা তুলে নিয়েছেন। এই টাকা তুলে সে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছে। আব্দুল খালেক নামে অন্য এক প্রতিবন্ধীর পিতা জানান, ব্যাংক থেকে যখন টাকা প্রদান করা হতো তখন তাদের কোনো টাকা খোয়া যায়নি। মোবাইল ব্যাংকিং চালু হওয়ার পর তাদের এলাকার বহু মানুষের ভাতা নগদ একাউন্ট থেকে হাওয়া হয়ে গেছে।’ এবিষয়ে অভিযুক্ত কলেজছাত্র রাজন জানান, তিনি কারো টাকা উত্তোলন করেননি। সামনে নির্বাচন, তাই প্রতিপক্ষরা আমার উপর এ রকম মিথ্যা দ্বায় চাপাচ্ছে। স্থানীয় সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর আব্দুল ওহাব বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়ে দলাদলির কারণে এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো তার ওয়ার্ডেও নগদ একাউন্ট হ্যাক করে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলা পুলিশ ফাড়ির এএসআই মাখন বিশ্বাস জানান, ভুক্তভোগীরা যে টাকা পায়নি এটা সত্য। এই টাকা কীভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে তা বিষদ তদন্তের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ, শত শত মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসুচির টাকা ‘নগদ’ একাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেছে। একাউন্ট হ্যাক করে কে বা কারা হতদরিদ্রদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তার রহস্য এখনো সমাজসেবা অধিদপ্তর জানাতে পারেনি। টাকার শোকে হতদরিদ্ররা আহাজারি করলেও আজও এর কোনো প্রতিকার মেলেনি।


কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী