হাটবোয়ালিয়া পশুহাটে নানা অনিয়ম!
- আপলোড তারিখঃ
২৬-০৯-২০২১
ইং
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়ায় সাপ্তাহিক পশুহাটে খাস আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সপ্তাহের প্রথম দিন অর্থাৎ প্রতি শনিবার বসে এই পশুহাট। চলতি বছরের ১৪ মার্চ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন হাটবোয়ালিয়া পশুহাট ইজারার জন্য ২৭,৭৭,০১৮ টাকায় ট্রেন্ডার আহব্বান করে। কিন্তু এই ট্রেন্ডার ব্যর্থ হওয়ায় আবার পুনরায় গত ২১ ও ২৮ মার্চ তারিখে আবার ট্রেন্ডার আহ্বান করে উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু পুনরায় টেন্ডার ব্যর্থ হলে চলতে থাকে খাস কালেকশন।
অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া হাট কালেকশন কমিটির সদস্যের মধ্য খাস কালেকশনের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিরোধের সৃষ্টি হয়। এমনকি এই বিরোধ সংঘাতে পর্যন্ত রুপ নেয়। এতকিছুর পরেও কিন্তু থেমে নেই খাস কালেকশন। এছাড়া ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম-পুলিশ হিসেবে কর্মরত ভাংবাড়িয়া গ্রামের লিয়াকত আলির ছেলে টিপু চৌকিদার নামের এক ব্যক্তির চাঁদাবাজি রীতিমতো প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। এই টিপু চৌকিদার হাটের গরু ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মের বাইরে চাঁদা তোলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এতে ইন্ধন দেন হাট কালেকশন কমিটির সদস্যরাসহ স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু সরকার দলীয় লোকজন। এছাড়া টিপুর সঙ্গে হাটবোয়ালিয়ার ভাটাপালা গ্রামের সুরোজ আলী ও হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মহসিন আলী অনেক আগে থেকেই তো রয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, হাটে গরু প্রতি ৪৫০ টাকা খাজনা ধার্য করা আছে। অথচ টিপু চৌকিদার ও তার সহযোগীরা মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে কোনো প্রকার রশিদ ছাড়ায় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাট থেকে গরু ছেড়ে দেন। এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের পকেট গরম করেন। দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যকলাপ চালাচ্ছেন তারা বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এবিষয়ে হাটের খাস কালেকশনের দায়িত্বে থাকা আসমানখালী ভূমি অফিসের তহশীলদার তক্কেল আলীর সাথে কথা বললে তিনি প্রথমে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনিই আবার এনিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘হাটে যা হয়, তা উপরের নির্দেশেই হয়। আমি এবিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’
এবিষয়ে অভিযুক্ত টিপু চৌকিদারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি হাট থেকে কৌশলে সটকে পড়েন। পরে মোবাইল ফোনে কথা বললে টিপু বলেন, ‘হাটে এ সব হবেই, হাট আমাদের স্থানীয়, আপনাদের যা খুশি করেন, কিছুই করতে পারবেন না।’
এ বিষয়ে আসমানখালি (ভূমি) অফিসের অফিস সহকারি আলি কদরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হাট সরকারি। আমি সরকারি চাকরি করি। হাট নিয়ে আপনাদের এতো মাথা ব্যথা কেনো। হাটে যা কিছু হয় সব কিছুই ঠিক আছে। পারলে বড় স্যারের সাথে কথা বলেন। কিন্তু শত চেষ্টার পরো বড় স্যারের নাম প্রকাশ করতে নারাজ আলি কদর।
এবিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি আলম নুরের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘হাটে খাস আদায়ের সমস্ত টাকা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হয়। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা কোনো ব্যক্তি সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎতের ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকে, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কমেন্ট বক্স