দেড় বছর পর চেকপোস্ট এলাকা আবার সরব
- আপলোড তারিখঃ
২০-০৯-২০২১
ইং
দর্শনা জয়নগর-গেদে আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে কার্যক্রম শুরু, প্রথম দিনে ৩৫ জনের ভারতে প্রবেশ
যাত্রীদের ভারতে প্রবেশে দুপুর পর্যন্ত বিজিবির বাধা; ফিরে গেছেন অনেকই : দুপুরে পর সব স্বাভাবিক
রুদ্র রাসেল/ওয়াসিম রয়েল:
কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষামূলকভাবে পূর্ণ কর্মঘণ্টায় নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করেছে জয়নগর-গেদে চেকপোস্ট। দীর্ঘ ১৮ মাস পর করোনায় বন্ধ হওয়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একমাত্র রুট দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা জয়নগর-গেদে আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশে যাতায়াত শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল সাতটা থেকে দর্শনা জয়নগর ইমিগ্রেশন, কাস্টম অফিস ও বিজিবি চেকপোস্টে স্ব স্ব কর্মকর্তারা তাঁদের কর্মস্থলে এসে কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতেই বেশ কয়েকজন ভারতগামী যাত্রী তাঁদের প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র নিয়ে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের কার্যক্রম সমাপ্ত করলেও বিজিবি চেকপোস্টে আটকে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তবে দুপুর সোয়া একটার দিকে বিজিবির কাছে অনুমতিপত্র আসার পর বিজিবি চেকপোস্ট থেকে যাত্রীদের ছাড়া হয়। ততক্ষণে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আরও ১৬ জন যাত্রী দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ফেরত গিয়েছে বলে জানায় একটি সূত্র। দুই দেশের যাতায়াতের প্রথম দিনেই সকল বিধি-নিষেধ মেনে ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে কেউ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে, কেউ দীর্ঘদিন পরে ভারতে স্বজনদের দেখতে আবার কেউ ব্যবসায়িক কাজে ভারতে প্রবেশ করেছেন। এছাড়া গতকাল সারা দিনে বাংলাদেশি নাগরিক ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন ৯২ জন। নতুন করে ৬ জন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, দেড় বছর পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে জয়নগর চেকপোস্ট এলাকা। যাতায়াতকারী যাত্রীদের বেশি আনাগোনা না থাকলেও চেকপোস্ট এলাকা ছিল সরব। চেকপোস্ট এলাকার দোকান ব্যবসায়ীরা, হোটেল ব্যবসায়ীরা ও ভ্যান-রিকশা চালকদের মুখে যেন হাসির ফোয়ারা ছুটছে। কয়েকদিনের মধ্যেই চেকপোস্ট যেন আবারও পূর্বের ন্যায় জমজমাট হয়ে ওঠে এমনটায় আশা করছেন স্থানীয়রা।
দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারতগামী রাজশাহী জেলার নাজমুন নাহার নামের এক নারী যাত্রী বলেন, ‘আজ থেকে দর্শনার জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া যাবে, জানতে পেরে শনিবারই করোনা টেস্ট, করোনা টিকাসহ সকল কাগজপত্র প্রস্তুত রেখেছিলাম। সকাল সাড়ে ৯টায় আমরা চেকপোস্টে এসে পৌঁছে জানতে পারি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি না পাওয়ায় এই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে দুপুর একটার দিকে বিজিবি সদস্যদের থেকে জানতে পারলাম তারা অনুমতি পেয়েছে। এখন আমরা ভারতে প্রবেশ করতে পারব। দর্শনা জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া অনেক সহজ হয়। দেড় বছর পর চেকপোস্ট খুলে দেওয়ায় আমরা অনেক আনন্দিত।’
জয়নগর চেকপোস্ট এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত দেড় বছর যাবৎ হোটেল প্রায় বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। এই এলাকা একবারে নীরব হয়েছিল। তবে আজ থেকে আবার চেকপোস্ট এলাকায় নতুন নতুন মানুষে মুখরিত হয়ে উঠছে। আমরা আবার হোটেল ব্যবসা পুরোপুরিভাবে পরিচালনা করতে পারব।’
দর্শনা বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ‘সকাল থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ায় প্রথমে একটু সমস্যা হয়েছিল। পরে দুপুর একটার দিকে নির্দেশনা পেলে আমরা কার্যক্রম চালু করে ভারতগামী যাত্রীদের বিজিবি চেকপোস্ট দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।’
দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আব্দুল আলিম জানান, রোববার সকাল থেকে দর্শনা চেকপোস্টের সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ দেড় বছর পর এই চেকপোস্ট দিয়ে পুনরায় যাত্রী আসা-যাওয়া শুরু হলো। এ ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমনের ক্ষেত্রে আর কোনো অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন হবে না। ভারতে যাওয়ার আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর যে পত্র ছিল, তাও আর থাকছে না। তবে এই চেকপোস্ট দিয়ে গমনের ক্ষেত্রে সকল নাগরিককে যাত্রার আগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা আরটিপিসিআর টেস্ট সার্টিফিকেট সাথে রাখতে হবে। তবে সকাল থেকেই ভারত থেকে যাত্রীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও বিজিবি অনুমতি না পাওয়ায় দুপুর ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কাউকে ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে ১টার দিকে সকল জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশ থেকে যাত্রীরা কাস্টমসের সকল শর্ত মেনে ভারতে প্রবেশ করতে শুরু করে।
দর্শনা কাস্টম অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আফজাল বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় বছর পর আজ রোববার সকাল থেকে দর্শনা চেকপোস্টের সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল থেকে ভারত ফেরত যাত্রীরা বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না পাওয়ায় বিজিবি সদস্যরা দুপুর ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কাউকে ভারতে প্রবেশ করতে দেয়নি। তবে অনুমতি পেলে ১টার পর থেকেই যাত্রীরা চেকপোস্টের কার্যক্রম সম্পন্ন করে ভারতে প্রবেশ করতে শুরু করে।
উল্লেখ্য, গত বছর ১৩ মার্চ করোনাভাইরাস মহামারি রোধে দর্শনা চেকপোস্টের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১৭ মে ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে সীমিত পরিসরে দর্শনা চেকপোস্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসময় শুধুমাত্র ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে এ চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন।
কমেন্ট বক্স