বাল্যবিবাহের শিকার কিশোরীর আত্মহত্যার চেষ্টা!
- আপলোড তারিখঃ
১৭-০৯-২০২১
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় চল্লিশোর্ধ্বা স্বামীর সংসার করতে না চেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার তামান্না আক্তার (১৫) নামের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে দুইপাতা ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা চেষ্টা করে তামান্না। ঘুমের ওষুধ সেবন করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আত্মহত্যার চেষ্টাকারী তামান্না আক্তার আলমডাঙ্গা উপজেলার আমিরপুর গ্রামের আবু সাইদ শাহীনের মেয়ে ও খাসকররা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
জানা যায়, তামান্নার জন্মের দুইমাস পর তালাক হয়ে যায় তাঁর পিতা-মাতার মধ্যে। এরপর কোর্টের মাধ্যমে তামান্নার অভিভাবকত্য পায় তাঁর নানা ও নানী। এরপর থেকেই তামান্না নানার বাড়ি আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের খাসকররা গ্রামে বড় হতে থাকে। কোর্টের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত তামান্নার ভরণপোষণের জন্য নির্ধারিত টাকা প্রতিমাসে তামান্নার পিতা দিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে তামান্নার বয়স ১৫ বছর।
এদিকে, গত ২২দিন পূর্বে তামান্নার নানা ঠাণ্ডু জোয়ার্দ্দার জাল জন্মনিবন্ধন তৈরি তামান্নার পিতাকে কিছু না জানিয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার রামদিয়া কাইতপাড়া গ্রামের জামাত আলীর চল্লিশোর্ধ বয়সী ছেলে লাভলুর সঙ্গে তামান্নার বিয়ে দেন। পিতা-মাতাহীন তামান্না নানা-নানীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে বিয়েতে সেসময় মত দেয়। কিন্তু বিবাহের পর মাত্র ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তামান্না চল্লিশোর্ধ্ব স্বামী লাভলুকে পছন্দ না হওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে।
তামান্নার চাচা তুহিন হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘১৫ বছর পূর্বে আমার ভাই শাহীন ও ভাবী স্বপ্না খাতুনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তখন তামান্নার বয়স ছিলো মাত্র দুই মাস। এসময় কোর্টে মামলা হলে তামান্নার অভিভাবকত্য পায় তাঁর নানা ও নানী। কোর্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তামান্নার ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে কিছু টাকা প্রদানের জন্য নির্ধারণ করে দেয়। আমার প্রতি মাসে তামান্নার খোরপোষ বাবদ টাকা প্রদান করে আসছি। কিন্তু আমরা তামান্নাকে দেখতে গেলে তার নানা-নানী আমাদের সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার ও গালিগালাজ করতো।
তামান্নার পিতা শাহীন বলেন, ‘আমার মেয়ের বিয়ে দিয়েছে আমাকে জানানোর প্রয়োজনও মনে করেনি তারা। মাত্র ১৫ বছর বয়স আমার মেয়ের। কিভাবে তারা ৪০ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিবাহ দিয়ে দিলো। আমরা খোঁজ নিয়ে আরও জানতে পেরেছি বিবাহের সময় তামান্নার পিতার নামের স্থানে তার মামা সাজিদুল রহমানের নাম দেওয়া হয়েছে। আমার মেয়ের জীবন ওরা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি ওদের বিচার চাই একই সঙ্গে আমার মেয়ের দায়িত্ব চাই।’
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, ‘বিকেল চারটার দিকে পরিবারের সদস্যরা তামান্নাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আাসে। তাদের নিকট থেকে জানতে পারি সে দুইপাতা ঘুমের ওষুধ সেবন করেছে। জরুরি বিভাগ থেকে তার পাকস্থলি ওয়াশকরাসহ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রাখা হয়েছে। তামান্নার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত কিনা এখনই বলা যাবে না।’
অপরদিকে, হাসপাতালে তামান্না খাতুনের শয্যাপাশে থাকা তার চাচা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাল্যবিবাহের শিকার তামান্নার বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে তদন্ত করলে অনেক অজানা তথ্য বেড়িয়ে আসবে।
কমেন্ট বক্স