চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০৮-২০২১
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৯ মিমলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়। যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত বলে জানিয়েছে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এদিকে গত তিনদিনের বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন এলাকা ও সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুড়ে দেখা যায় টানা তিনদিনের বৃষ্টিপাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর ভবনের আসেপাশের এলাকা, একাডেমি মোড় আলমডাঙ্গা সড়ক, সাদেক আলী মল্লিকপাড়া-পলাশপাড়া শিখন কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের নিকটবর্তী সড়ক, চুয়াডাঙ্গা শান্তিপাড়ার একাধিক সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও শহর ও শহরতলীর আংশিক নিচু স্থানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকেছে। এতে শহরের জনজীবন নেমে এসেছে দুর্ভোগ।
আহসান কবির নামে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়রের কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের যন্ত্রণা বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকার নিচু রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। দোকানের মধ্য পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দোকান ব্যবসায়ীরা।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় ভারী বর্ষণ হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটাই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। গত বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বৃহস্পতিবার ছয়টা পর্যন্ত এ জেলায় ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে মৌসুমি বায়ু। আগামীকাল (আজ) এই মৌসুমি বায়ুর সামান্ন পরিবর্তন হবে। তবে আগামী পাঁচদিন তা অপরিবর্তীত থাকবে।
প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার একাধিক ফসলের মাঠ। শিষ ধরা ধান, কপি, ঝাল, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত এখন পানির নিচে। কৃষকের একমাত্র আয়ের উৎস বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাঁদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
জানাযায়, দামুড়হুদা উপজেলায় গত সোমবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বিকাল থেকে রাত গড়ালে বৃষ্টির প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে দামুহুদা উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা করছেন সাধারণ জনগণ। দামুড়হুদা উপজেলা বূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে এই উপজেলার প্রায় ১ হাজার বিঘা ফসলি জমিতে পানি জমেছে। যার ফলে কৃষকদের ব্যপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ভরা মরসুমে আমন ও আউশ ধান, গ্রীমকালীন সবজি কফি ঝাল, মিষ্টি কুমড়া পেঁপেসহ অনেক ফসলের জমিতে পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের কৃষক টোকন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের অধিকাংশ জমিতে পানি বেঁধে গেছে। এই এলাকায় সবজি চাষ বেশি হয়। সারের দোকানে বীজের দোকানে ঋন করে কৃষকেরা চাষআবাদ করেছে। কিন্তু টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে সব তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা আমারা দিশাহারা হয়ে পড়েছেছ।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির বলেন, দামুড়হুদা উপজেরার সকল এলাকায় খবর নেওয়া হয়েছে। প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় ১২৩ হেক্টর বা ৯শত ২২ বিঘা জমিতে পানি জমে আছে। এত কৃষকের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।’
কমেন্ট বক্স