সুপ্রিম কোর্টর ভাস্কর্য অপসারণ : প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন: আজ সকাল ১১টায় বিক্ষোভ
- আপলোড তারিখঃ
২৫-০৫-২০১৭
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের দাবির মুখে অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হলো সুপ্রিমকোর্ট চত্বরের আলোচিত গ্রিক দেবীর সেই ভাস্কর্য। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সাড়া পাওয়ার পরই এ কার্যক্রমে হাত দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শুরু হয়। ভাস্কর্যটির কারিগর শিল্পী মৃণাল হকের তত্ত্বাবধানে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এটি অপসারণ করে সুপ্রিম কোর্টের পেছনের দিকে এনেক্স ভবনে নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেখানেই এটি স্থাপন করা হবে। এ সময় সুপ্রিমকোর্টের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়োজিত ছিলেন।
ভাস্কর মৃণাল হক প্রথমে এ বিষয়ে কিছু না বলতে চাইলেও পরে বলেন, বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে জানানো হয়, ভাস্কর্য সরানো হবে। এটি সরিয়ে সুপ্রিমকোর্টের পেছনের দিকে এনেক্স ভবনে নেওয়া হবে। সরানোর সময় ভাস্কর্যের যেন ক্ষতি না হয় এ জন্য তদারকি করতেই ঘটনাস্থলে আছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমাকে ভাস্কর্যটি সরিয়ে নিতে বলা হয়। চাপ দেওয়া হয়। এর আগে লালনের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেক ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে। আমার পকেটের টাকা খরচ করে আমি ভাস্কর্য বানিয়েছি। আমেরিকায় রাজকীয়ভাবে ছিলাম। এদেশের মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য দেশে এসে বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য বানিয়েছি। আমার অনেক বিরোধী আছে। তারা এসে ভালো কিছু করে দেখাক। সুপ্রিমকোর্টের ভাস্কর্য কোনো গ্রিক বা বিদেশি মেয়ে নয়। এটা শাড়ি-ব্লাউজ পরা বাঙালি মেয়ে। শতভাগ বাঙালি মেয়ে, দাঁড়িপাল্লা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যা বিচারের প্রতীক। এটা কীভাবে গ্রিক দেবী হলো। এর পরে রাজু ভাস্কর্য, বলাকা ভাস্কর্য, ঘোড়ার গাড়ির ভাস্কর্য ভাঙতে বলা হবে। এটা আমি নিজেই সরিয়ে নিচ্ছি। অন্যরা করলে নষ্ট করে ফেলবে। তাই চেষ্টা করছি নষ্ট না করে সরানোর। কার নির্দেশে এটি সরানো হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি আমি বলতে পারব না। আমার হাত-পা বাঁধা।
রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’
এদিকে, ভাস্কর্য সরানো কার্যক্রম চলতে থাকা অবস্থায় সুপ্রিম কোর্ট গেটের সম্মুখে অবস্থান নেয় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদে তাল মিলিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য অবহিত করে হেফাজত ইসলাম এ কার্যক্রম গতিশীল করায় তাদের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দেয় বিক্ষোভ কারীরা। এ ছাড়াও তারা ঘোষণা দেয় আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজধানীর রাজু ভাস্কর্য প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সুপ্রিম কোর্ট অভিমূখে বিক্ষোভ মিছিল করবে।
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর হেফাজতে ইসলামের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হেফাজতসহ অন্য ধর্মীয় নেতারা গ্রিক দেবীর ‘মূর্তি’ সরানোর দাবি তুললে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভাস্কর্য আমারও পছন্দ নয়।’ এরপর হেফাজতে ইসলামের ‘মূর্তি’ সরানোর দাবি আরও জোরালো হতে শুরু করে। হেফাজতের নেতারা বলেন, সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে এ ভাস্কর্যের পাশেই জাতীয় ঈদগাহ মাঠ। সেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য পাশে রেখে ঈদের নামাজ আদায়ের ইস্যুটিকে সামনে এনে ‘মূর্তি’ সরানোর দাবি জানান তারা। ‘মূর্তি’ সরানো না হলে তারা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনেরও ঘোষণা করেন।
কমেন্ট বক্স