হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন সাংবাদিক ডালিম
- আপলোড তারিখঃ
২৪-০৮-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিকের ওপর দু-দফা হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুযাডাঙ্গা সদর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিম (৩৮)। গতকাল সোমবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। গত ১৬ আগস্ট রাতে হত্যার উদ্যেশ্যে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে হামলার শিকার তিনি। সেদিন থেকে গতকাল পর্যন্ত সাংবাদিক ডালিম চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। গত শনিবার হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় আরও দুদিন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণেই রাখা হয় তাঁকে।
জানা যায়, গত সোমবার সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমকে দু’দফা কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে রাজুর আহমেদ, তার নেতৃত্বে জান্নাত হোসেন ও আল মমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন। ঘটনার দিন রাতেই ঘটনাস্থল থেকে হত্যাচেষ্টাকারী প্রধান আসামি রাজু আহমেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে, সাংবাদিক ডালিমের সহকর্মীরা খবর পেয়ে হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন রোগীর স্বজদের সহযোগিতায় ডালিমকে জরুরি বিভাগে নেয়। সাংবাদিক ডালিমের জখম গুরুতর হওয়ায় ও জখমের স্থান থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শেষে তাঁর শরীরে এক ব্যাগ রক্ত দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে অবজারভেশনে রাখা হয়।
ঘটনার দিন রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মামলার প্রধান আসামি চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ইমারজেন্সি সড়কের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক স্কুল ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত কমিটির অন্যতম সদস্য রাজুর আহমেদকে (২৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন দুপুরে সাংবাদিক ডালিমের পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে ওইদিনই অভিযান চালিয়ে নূরনগর কলোনীপাড়া থেকে মামলার অপর দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে উদ্ধার হয়নি হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত অস্ত্র। মামলার অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারের পুলিশের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে সদর থানা সূত্রে জানা যায়।
এদিকে, গত রোববার সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগ নেতাসহ তিন আসামির রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড ও জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মানিক দাস শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানিতে অংশ নেন রাষ্ট্রপক্ষে আদালত পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাদিউজ্জামান ও বাদীর আইনজীবী মারুফ সরোয়ার বাবু এবং আসামিপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সেলিম উদ্দিন খান, মাহবুবুল ইসলাম ও তসলিম উদ্দিন।
সাংবাদিক ডালিমের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে সদর হাসপাতালের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময় বলেন, ‘১৬ আগস্ট গুরুতর জখম সাংবাদিক ডালিমকে জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে অবজারভেশনে রাখা হয়। জখম স্থানে দুই শতাধিকের বেশি সেলাই ও রক্তক্ষরণ রোধে প্রেসার বেন্ডেজ করে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। গত শনিবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁর অবস্থা সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত না হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালেয় চিকিৎসাধীন রাখা হয়। তবে এখন তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হওয়ায় আজ (গতকাল সোমবার) তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে থাকলেও তাঁকে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং নিয়মিত জখম স্থানে ড্রেসিং করতে হবে।’
কমেন্ট বক্স