বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক সজলের অকাল মৃত্যু

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৮-২০২১ ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক সজলের অকাল মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক সজল হাসানের (৩০) অকাল মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সজল হাসান চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার শের আলীর ছেলে ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন। এদিকে, অনেকেই মনে করছেন কম বয়সেই শারীরিক অসুস্থতা ও সাংসারিক জীবনে হতাশ হয়ে সজল বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহত সজলের পরিবারের সদস্যরা বলছে হার্টের অসুখের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা শারীরিকভাবে অসুস্থ সজলকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করে। সেদিনই একটু সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি বাড়িতে চলে যান। গত শুক্রবার অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদ্যস্যরা তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল জলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয় সজলকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রোববার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সজলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ‘দীর্ঘদিন পূর্বে সজলের হার্টে ব্লক ধরা পড়ে। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন সময় অসুস্থ থাকতেন। ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। সদর হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক হওয়ায় তিনি অসুস্থতার মধ্যেও জরুরি বিভাগে আসতেন। তবে সাংসারিক জীবন অগোছালো ছিল তাঁর। স্ত্রী, সন্তান থাকলেও অসুস্থতার মধ্যে কাউকেই পাশে পাননি তিনি। এরই মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে সজল মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তবে গত বুধবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সজলের পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করে। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিহত সজলের লাশ চুয়াডাঙ্গা এসে পৌঁছায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফার্মপাড়া খাদিমুল ইসলাম মাদ্রাসায় তাঁর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাত ১২টার দিকে জান্নাতুল মাওলা কবরস্থানে তাঁর দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। এদিকে, সদর হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক সজল হাসানের মৃত্যুর নিয়ে গতকাল হাসপাতাল প্রাঙ্গনসহ ফার্মপাড়ায় নানান গুঞ্জন শোনা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেকদেরর মধ্যে কয়েকজনকে সজল বলেছে, ‘বৃহস্পতিবার রাতে দুজন ব্যক্তি তাঁকে মদের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে ড্রেনের ভেতর ফেলে রেখে যায়।’ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এস ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘জরুরি বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক সজল দীর্ঘদিন যাবত হার্টের অসুখে ভুগছিলেন। তাঁর হার্টে একটি ব্লক ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শনিবার রাতে পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য সজলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (গতকাল) তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’ এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (অসি) আবু জিহাদ খান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের স্বেচ্ছাসেবক সজল দীর্ঘদিন যাবত হার্টের অসুখে ভুগছিলেন। যে কারণে গত শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যুর বিষয়ে সদর থানায় কোনো অভিযোগও হয়নি।’


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’