স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, একজন আটক
- আপলোড তারিখঃ
১৬-০৭-২০২১
ইং
জীবননগর অফিস:
জীবননগরে ৪র্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কুতুব উদ্দীন (৪৫) নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক কুতুব উদ্দীন উপজেলার গঙ্গাদাসপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী মাস্টারের ছেলে। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গঙ্গাদাশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গঙ্গাদাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী (১৪) একই গ্রামের হাজি আ. মালেক মোল্লার মেজ ছেলে সীমান্ত ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মিল্টন মোল্লার বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছে। সেই সুবাদে মিল্টন মোল্লার চাচাতো শ্যালক একই গ্রামের প্রভাবশালী মোহাম্মদ আলী মাস্টারের ছেলে কুতুব উদ্দিন বিপুল (৪৫) কৌশলে গত সাত মাস আগে বাড়ির পাশে মাঠে জোরপূর্বক ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আগেই ধামাচাপা দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়েটির শরীরের পরির্তন দেখা দিলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে জানা যায় মেয়েটির গর্বে সাত মাসের সন্তান আছে। এ ঘটনার পর ওই স্কুলছাত্রীর বোন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অভিযুক্ত বিপুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০৩ সালের সংশোধনী ধর্ষণ আইন ৯/১ ধারায় মামলা করলে পুলিশ তাঁকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
ওই স্কুলছাত্রীর বোন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, আমাদের বাবা নেই, আমরা অনেক কষ্ট করে মানুষ হয়েছি। আমার বোনকে যে ধর্ষণ করেছে, আমরা তার সঠিক বিচার চাই।’
অভিযুক্ত বিপুলের ভাই শিপুল বলেন, ‘মেয়েটি মিল্টন মোল্লার বাড়িতে কাজ করত। তারা জোর করে আমার ভাইয়ের নামে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বলছে আমার ভাই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। আমরা যখন শুনেছি মেয়েটির পেটে সাত মাসের বাচ্ছা আছে, তখন তারা বাচ্ছাটা নষ্ঠ করতে চেয়েছিল, আমরা নিষেধ করেছিলাম। এবং বলেছিলাম বাচ্ছাটার ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে, তাহলে বুঝা যাবে বাচ্ছার বাবা কে, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে ফ^াসানোর জন্য এ মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’
সীমান্ত ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মিল্টন মোল্লা বলেন, ‘মেয়েটি আমার বাড়িতে অনেক দিন যাবত কাজ করে। আমি সমস্ত বিষয় জানতে চাইলে মেয়েটি আমাকে বলে বিপুলের জমির পাশে ঘাস কাটতে গেলে বিপুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।’
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গঙ্গাদাশপুর গ্রামে এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে ভুক্তভোগীর বোন থানায় একটি ধর্ষণের মামলা করলে পুলিশ তাকে আটক করে এবং আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। সেই সাথে ধর্ষণের কোনো আলামত আছে কি না, সে বিষয় জানার জন্য ভুক্তভোগীকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে আসলে ধর্ষণ না অন্য কিছু।
কমেন্ট বক্স