ঝিনাইদহে জঙ্গী অভিযানের পর থেকে ১৫ দিনে ৯ ব্যাক্তি নিখোঁজ!
- আপলোড তারিখঃ
১৮-০৫-২০১৭
ইং
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ সদর উপলোর পোড়াহাটি ইউনিয়নের ৩টি গ্রাম থেকে ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে এ সব মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে মহেশপুরের বজরাপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানায় নিহত তুহিনের ভাই টিটো বিশ্বাস, আত্মঘাতি জঙ্গি পোড়াহাটি গ্রামের নওমুসলিম আব্দুল্লাহর শ্বশুর ভ্যান চালক আব্দুল লতিফ, ঝিনাইদহ সরকারী কেসি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোঃ শাহীন জামাল (২৩), একই কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র রানা আহম্মেদ (২২), সাইকেল মিস্ত্রী মনোয়ার হোসেন (৩২), গ্রিল মিস্ত্রি লিমন বিশ্বাস (১৭), ইজি বাইক চালক আল আমিন (২৫), কাপড় ব্যবসায়ি মোঃ সাহেব আলী (৪০) ও ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র ইমন হোসেন (১৮)। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নিখোঁজ ব্যাক্তিদের মধ্যে শুধু টিটোর পরিবার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। এদিকে জঙ্গী সন্দেহে র্যাবের হাতে আটক হয়েছেন পোড়াহাটি ইউনিয়নের ধানহাড়িয়া চুয়াডাঙ্গা গ্রামের আত্তাপের ছেলে সেলিম বিশ্বাস ও মতিউর রহমানের ছেলে প্রান্ত। সেলিম ও প্রান্ত সম্পর্কে চাচাতো ভাই। এলাকাবাসী জানায়, নিখোঁজ ব্যাক্তিদের মধ্যে আব্দুল লতিফ তার জামাই আব্দুল্লাহর বাড়িতে অভিযানের দিন থেকেই রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ রয়েছেন। গত ৪ মে রাত ৮টার পর থেকে টিটো নিখোঁজ। এছাড়া লিমন নামে এক যুবক গত শুক্রবার নামাজ পড়তে গিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এছাড়া বাকি ছয়জনকে বিভিন্ন সময় সাদা পোষাকধারী লোকেরা নিজেদের আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে মাইক্রোযোগে নিয়ে গেছেন বলে তাদের পরিবার অভিযোগ করেছেন। আবার চুয়াডাঙ্গা গ্রামে জঙ্গী অভিযানের ব্যাপারে র্যাবের দায়েরকৃত মামলায় নিখোঁজদের কেও কেও আসামী হয়েছেন এমন কথা প্রচার হচ্ছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান এই সকল ব্যাক্তিরা নিখোঁজ হলেও শুধু চুয়াডাঙ্গা গ্রামের টিটো ছাড়া কোন মিসিং ডায়েরী করেনি কারো পরিবার। তবে পুলিশের সদস্যরা তাদের কাউকে আটক করেনি। তিনি আরো বলেন আইন শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন শাখা রয়েছে। অন্য কোন বাহিনীও তাদের আটক করতে পারে। এছাড়া জঙ্গি বিলোধী অভিযান চলছে, সেই ভয়ে সংশ্লিষ্টরা হয়তো পালিয়েও থাকতে পারে। আর সেটাকে আড়াল করতে তাদের পরিবার এই ধরনের গল্প ছড়াতে পারে বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য গত ২০১৬ সালে জেলাব্যাপী ভিন্ন মতের লোকজনকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যার পর ঝিনাইদহে গুপ্ত হত্যার আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ওই বছর ঝিনাইদহের কালুহাটী গ্রামের খৃষ্টান হোমিও চিকিৎসক সমির খাজা, শিয়া মতবাদের হোমিও চিকিৎসক কালীগঞ্জের চাপালী গ্রামের আব্দুর রজ্জাক, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করোতিপাড়া গ্রামের পুরোহিত আনন্দ গোপাল ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামে শ্যামা নন্দকে কুপিয়ে হত্যার পর জঙ্গী আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার হলি আর্টিজেনে হামলার সাথে জড়িতদের কেও কেও ঝিনাইদহে আস্তানা গড়ে তোলে এমন খবর মিডিয়ায় প্রচার হলে কুলনা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান ও ঝিনাইদহের সাবেক পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন দৃড়তার সাথে ঝিনাইদহে জঙ্গী আস্তানার খবর প্রত্যখান করেন। তারা গুপ্ত হত্যার জন্য জামায়াত শিবিরকে সরাসরি দায়ী করেন। ২০১৭ সালে এসে ঝিনাইদহের ৪টি স্থানে জঙ্গী আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ ও র্যাব। এ সব আস্তানার মধ্যে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধানহাড়িয়া চুয়াডাঙ্গা, পোড়াহাটী, লেবুতলা ও মহেশপুরের বজরাপুর গ্রাম। এ সব আস্তানায় অভিযানকালে তুহিন ও আব্দুল্লাহ নামে দুই জঙ্গী নিহত হন। তাদের বাড়িও সদরের পোড়াহাটী ইউনিয়নে। জঙ্গী আস্তানায় পুলিশ ও র্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমান বিষ্ফোরক, মাইন, সুসাইডেল ভেস্টসহ রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার হয়। জঙ্গী অভিযানের সময় পুলিশ ও র্যাবের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রেস ব্রিফিংকালে জেলায় আরো জঙ্গী আস্তানা থাকতে পারে বলে আশংকা করেন। তাদের এই আশংকা থেকে বোঝা যায় ঝিনাইদহ জেলায় জঙ্গীরা ঘাটি গেড়েছে। এদিকে ঝিনাইদহ জেলায় একেরপর এক জঙ্গী আস্তানার খবরে জেলাবাসিও স্বস্তিতে নেই। তাদের মাঝে সব সময় আতংক ও ভীতি বিরাজ করছে।
কমেন্ট বক্স