বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

নানা সংকটে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স!

  • আপলোড তারিখঃ ২৯-০৬-২০২১ ইং
নানা সংকটে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স!
মিঠুন মাহমুদ: চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগর। ২০১১ সালের আদমশুমারীর তথ্যমতে জীবননগর উপজেলায় ১ লক্ষ ৬৯ হাজার মানুষের বসবাস। আর এই বিপুল পরিমাণ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য এই উপজেলায় রয়েছে একটি মাত্র চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র। আর তা হলো জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ১৯৭৩ সালে ৩১ শয্যবিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ৩১ শয্যা থেকে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যার নতুন ভবনে রুপান্তর করা হয়। ২০১৯ সালে ৩১ শয্যার লোকবল নিয়ে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালানোর জন্য সরকারিভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই থেকে লোকবল ও চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে চলছে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি । জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের সজল মিয়া নামের এক রোগী বলেন, গত তিনদিন যাবৎ পেটের সমস্যা নিয়ে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। তার মধ্যে ডাক্তার আমাকে দেখেছে একদিন। হাসপাতালে চিকিৎসক নেই, শুধু তাই নয় এখানে একটি ইসিজি মেশিন আছে, কিন্তু তা চলে না। এক্সরে মেশিন আছে তাও অকেজো। একই অভিযোগ করেন উপজেলার হাসাদহ গ্রামের মতেহার হোসেনের স্ত্রী আলেয়া খাতুন, তিনি বলেন- ‘গাইনী চিকিৎসকের জন্য হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানে নাকী গাইনী চিকিৎসকই নেই। পরবর্তীতে অন্য এক চিকিৎসক আমাকে আল্ট্রাসনো পরীক্ষার জন্য বলে, কিন্তু হাসপাতালের আল্ট্রাসনো মেশিনটাও নাকি নষ্ট। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি সবকিছু বাইরে থেকেই করতে হয়, তাহলে এই হাসপাতালের দরকার কী? এবিষয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. সেলিমা আক্তার বলেন, ‘এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জীবননগর উপজেলা, পাশ্ববর্তী মহেশপুর উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা সদরের কিছু অংশের মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। রোগীর তুলনায় যে হারে চিকিৎসক থাকার প্রয়োজন তা নেই। ৫০ শয্যা হিসেবে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন চিকিৎসক থাকার প্রয়োজন, সেখানে আছেন মাত্র ৮ জন। গাইনী চিকিৎসক নেই, কনসালটেন্টও নেই। যারফলে ২০১৮ সাল থেকে হাসপাতালে কোনো অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। ২০১০ সাল থেকে হাসপাতালের এক্সরে মেশিন ও আল্ট্রাসনো মেশিন নষ্ট হয়ে থাকায় পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা একাধিকবার এবিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিকার হয়নি। বর্তমানে ৩১ শয্যার বরাদ্দকৃত খাবার ও লোকবল দিয়েই ৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমাদের অনেক বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা জীবননগর উপজেলায় প্রতিনিয়িত বাড়ছে। কোভিড-১৯ রোগীদের পরীক্ষা এবং চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে চিকিৎসক ও নার্স দেওয়া হয়েছে, যারফলে বাইরে থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতে একটু সমস্যা হচ্ছে। তারপরও হাসপাতালের চিকিৎসকরা দিনরাত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’