দালালের খপ্পরে পড়ে প্রসূতির মৃত্যু ক্লিনিকে!
- আপলোড তারিখঃ
২৭-০৬-২০২১
ইং
ঝিনাইদহ অফিস:
বিউটি খাতুন (২৪) নামে এক নারীর প্রসব বেদনা শুরু হলে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটস্থ শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু বিধি-বাম! সরকারি হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হন বিউটি। হাসপাতাল গেটের সামনে অপেক্ষমান দালালরা বিউটিকে সরকারি হাসপাতালে ঢুকতে দেয়নি। প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকা বিউটি খাতুনকে সেখান থেকে জোরপূর্বক ভাগিয়ে নিয়ে শৈলকুপা প্রাইভেট হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তখন গতকাল শনিবার ভোর ছয়টা। ক্লিনিকে ভর্তির পর কোনো ডাক্তার ছিল না। ছিল না কোনো প্রশিক্ষিত নার্স। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিউটি খাতুনের প্রসব বেদনা বাড়তে থাকে। ৩ ঘণ্টা প্রসব বেদনায় ছটফট করতে থাকেন ওই প্রসূতি। বেদনায় নীল হয়ে পড়ে তাঁর শরীর। একপর্যায়ে চিকিৎসা না পেয়ে গর্ভবতী বিউটি সকাল ৯টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিউটি খাতুন শৈলকুপা পৌরসভার বাজারপাড়া গ্রামের রিপন হোসেনের স্ত্রী।
এদিকে বিউটির মৃত্যুর পর ক্লিনিকের ছয় মালিক ও ম্যানেজার গা-ঢাকা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্লিনিকের সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে শৈলকুপা থানার ওসি (তদন্ত) মহসীন আলী জানান, রোগীর পরিবার থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। সে কারণে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্লিনিকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদ আল মামুন জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট থাকায় দালালরা রোগীদের সরকারি হাসপাতালে ঢুকতে বাধা দেয়। রোগীদের ভুলভাল বুঝিয়ে ক্লিনিকে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। বিউটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দালালদের বিরুদ্ধে অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা গ্রহণ করে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে শৈলকুপা উপজেলার কোনো ক্লিনিকেই সার্বক্ষণিক ডাক্তার থাকে না, থাকে কাগজে কলমে। শৈলকুপা হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনেই গড়ে উঠেছে এই আধুনিক মানের কথিত ক্লিনিক। দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এখানে সেবার মান শূন্যের কোঠায়। আলীশান ডেকোরেশনসহ সবকিছু থাকলেও শুধু নেই সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও ডিপ্লোমা নার্স।
কমেন্ট বক্স