বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

লকডাউনের মধ্যে অনেকেই জীবন না জিবিকা সেই ধন্দ্বে

  • আপলোড তারিখঃ ২৩-০৬-২০২১ ইং
লকডাউনের মধ্যে অনেকেই জীবন না জিবিকা সেই ধন্দ্বে
তৃতীয় দিনের লকডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনিহা অসচেতন মানুষের মধ্যে মেহেরাব্বিন সানভী: চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও পার্শ্ববর্তী আলুকদিয়া ইউনিয়নে তৃতীয় দিনের লকডাউনেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনিহা দেখা গেছে অসচেতন মানুষের মধ্যে। গতকাল মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গা শহরসহ দৌলতদিয়াড়, আলুকদিয়া, ভালাইপুর মোড়ে ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই সচেতনতা। তবে, শুধু অসচেতন মানুষই নয়, কেউ কেউ আবার বাইরে বের হচ্ছেন জীবন না জিবিকা সেই ধন্দ্বে। অনেকেই বলেছেন, পেটের তাগিদে বাইরে বের হচ্ছেন তাঁরা। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে এবং কাঁচা বাজারে লকডাউনের মধ্যেও বাজার করার যেন উৎসব পড়েছে। প্রচুর মানুষ দেখা গেছে বাজারে। মুদিখানায়ও একই অবস্থা। কঠোর এ লকডাউনেও যেন চুয়াডাঙ্গার কিছু অসচেতন মানুষের কাছে করোনাভাইরাস কিছুই নয়। অসচেতন মানুষগুলো যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই মানছে না লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি। প্রতিদিন এ জেলায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও অসচেতন মানুষগুলোর সেদিকে একেবারেই খেয়াল নেই। এদিকে প্রশাসনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যারা বিধি-নিষেধ মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাম্প্রতিককালে চুয়াডাঙ্গায় যে হারে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে, তাতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প ছিল না। অপর দিকে, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আরও আগে এই লকডাউন দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এখন থেকে আরও ১৫দিন আগে লকডাউন দিতে পারলে সংক্রমণ মোকাবিলা আরও সহজ হতো। প্রশাসন বলেছে, জীবন ও জীবিকা উভয়ই রক্ষা করতে হবে। সে ক্ষেত্রে জীবনই অগ্রাধিকার পাবে। যে বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে, তার মাধ্যমে যদি সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেটি বড় অর্জন হবে। আর খাবারের জন্য সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, লকডাউন যত কম সময়ের জন্য হোক না কেন, হঠাৎ কাজ হারানো মানুষদের খাইয়ে বাঁচাতে হবে। করোনা থেকে বাঁচার চেয়ে ক্ষুধা থেকে বাঁচা কম জরুরি নয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় প্রশাসনকে দরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। চুয়াডাঙ্গা শহরের কঠোর লকডাউনের মধ্যেও ইজিবাইক নিয়ে বের হয়েছেন সাইদুল। কথা হলে তিনি বলেন, অনেক কষ্টে জমানো টাকা, ধার দেনা ও সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক কিনেছেন। এটাতেই দিন আনা দিন খাওয়া। সমিতির কিস্তিসহ পরিবারের খরচ এটা থেকেই হয়। বসে থাকলে কোনোভাবেই তাঁর দিন চলবে না। আবার ভিন্ন কথা বলছেন, নিচের বাজারে কাঁচা বাজার করতে আসা সামাদ আলী। তিনি বলেন, টাটকা ছাড়া তাঁর বাড়িতে কেউই খেতে পারেন না। তাই প্রতিদিন বাজার করতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন মত ও ভিন্ন যুক্তি আছে সবার কাছে। তবে এখন সময়ের প্রয়োজন কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করা। একদিকে যেমন প্রশাসনকে কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে হবে, ভাবতে হবে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর কথা। অন্যদিকে, অসচেতন মানুষগুলোকেও একটু সচেতন হতে হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রশাসন থেকে কাজ হারানো শ্রমজীবী মানুষের কথা ভাবা হচ্ছে। ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হবে। এখন সকলকে সুনাগরিকের দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিজেদের এবং পরিজনদের কথা ভেবে স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ এক সপ্তাহের লকডাউন বাস্তবায়ন করতে হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’