ক্লিনিকে হলো প্রেমিক যুগলের বিয়ে ও বাসর
- আপলোড তারিখঃ
১৯-০৬-২০২১
ইং
ভ্রাম্যমাণ প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গা শহরের ফাতেমা ক্লিনিকে প্রেমিক যুগলের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে বিয়ের পর সেখানেই তাঁদের বাসর সম্পন্ন হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আলমডাঙ্গা উপজেলার চরপাড়া গ্রামের আব্দুস সোবহানের অনার্স পড়ুয়া ছেলে হুসাইন আহমেদের (২৩) ডান পা ভেঙে যায়। ভাঙা পা নিয়ে তিনি গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার ফাতেমা ক্লিনিকের ৪ নম্বর কেবিনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর দেখাশোনার জন্য সেখানে তাঁর মা-বাবা ও বোন রয়েছেন। হুসাইন আহমেদ পা ভেঙে হাসপাতালে কষ্টে আছেন, এমন খবর পেয়ে ঝিনাইদহের লেবুতলা গ্রাম থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ছুটে আসেন প্রেমিকা তাসফিয়া সুলতানা মেঘা (১৯)।
সবকিছু জানার পর ছেলের অভিভাবকরা মেয়ের বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে ঘটনা সম্পর্কে জানান। ঘটনা জানার পর মেয়েকে আর বাড়িতে তুলবেন না বলে জানায় বাবা এবং বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। বাবার কথা শুনে মেয়েও বিয়ের দাবিতে অনড় সিদ্ধান্তের কথা ব্যক্ত করেন। এক পর্যায়ে তাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। গভীর রাতে ক্লিনিকের কেবিনেই কাজি ডেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর ওই কেবিনেই তাদের বাসর হয়। বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে সবাই এক নজর দেখতে ভিড় জমায় ক্লিনিকে।
হুসাইন আহমেদের বাবা আব্দুস সোবহান বলেন, ‘মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে আমাদের পূর্ব থেকেই পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া ছেলের সঙ্গে ওই মেয়ের বিয়ে আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ছেলের অসুস্থতার কথা শুনে মেয়েটি ক্লিনিকে চলে এসেছে। এরপর আমি মেয়ের পিতার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলি। মেয়ের বাবা এভাবে বিয়ে দিতে রাজি না। কিন্তু মেয়েটি বিয়ে না করে এখান থেকে যাবে না এরকম জেদ ধরার পর মধ্যরাতে কাজি ডেকে বিয়ে দেয়া হয়।’
ফাতেমা ক্লিনিকের মালিক বিলকিছ পারভিনের স্বামী মুনজুর আলী বলেন, ‘এমন ঘটনা বিরল। আমাদেরও ভালো লাগছে। ছেলে-মেয়ে দুজনই প্রাপ্ত বয়স্ক। রাতেই ক্লিনিকের অনুমতিক্রমে বিয়ের সব আয়োজন করা হয়, সেখানেই নবদম্পতির বাসর হয়।’
কমেন্ট বক্স