লোকলজ্জার ভয়ে চুপ করে আছে অনেকে
- আপলোড তারিখঃ
১১-০৬-২০২১
ইং
দামুড়হুদায় সেই শামিমের বলাৎকারের শিকার আরও এক মাদ্রাসাছাত্র
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দামুড়হুদার আলোচিত শামিম হোসেনের (৩০) কাছে বলাৎকারের শিকার হয়ে আরও এক মাদ্রাসাছাত্র হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বলাৎকারের শিকার তৃতীয় শ্রেণির ওই মাদ্রাসাছাত্রকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের সার্জারি কনসালট্যান্টের নিকট রেফার্ড করেন। এদিকে, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে গা-ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত শামিম। সে দামুড়হুদা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামের মিনারুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ এখনও তাকে ধরতে পরেনি। এদিকে অভিযোগ রয়েছে শামিম হাসানের কাছে বলাৎকারের শিকার হয়েছে আরও অনেকে। লোকলজ্জার ভয়ে তারা হাসপাতালে আসেনি চিকিৎসা নিতে, থানায় ও অভিযোগ করেনি।
জানা যায়, ‘দামুড়হুদা উপজেলার মোক্তারপুর গ্রামে কৃষিকাজ করে অভিযুক্ত শামিম হোসেন। পেশায় কৃষক হলেও গ্রামের সহজ সরল শিশু-কিশোরদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করা তাঁর অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। মোক্তারপুর গ্রামের একটি ইটের ভাটায় নির্জনস্থানে নিয়ে শামিম একাধিক শিশুকে বলাৎকার করে আসছিল। ভুক্তভোগী শিশু ও কিশোরেরা শামিমের ভয়ে এতদিন কাউকেই কিছু বলেনি। তবে সম্প্রতি শামিমের বলাৎকারের শিকার এক কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়ায় সে পরিবারের সদস্যদেরকে বিষয়টি জানায়। ওই কিশোরের থেকেই এলাকার একাধিক শিশু ও কিশোরের নাম উঠে আসে। যারা ইতোপূর্বে একইভাবে শামিমের পাশবিক নির্যাতণের শিকার হয়েছে।
বলাৎকারের শিকার তৃতীয় শ্রেণির ওই মাদ্রাসাছাত্রের মা অভিযোগ করে বলেন, ‘শামিম আমার ছেলেসহ আরও চারজন ছেলেকে একইভাবে নির্যাতন করেছে। শামিমের ভয়ে ও কাউকে না বলার হুমকিতে কেউ এতোদিন কোন কথা কলেনি। কিন্তু গ্রামের একটি ছেলে অসুস্থ্য হয়ে যাওয়ার পর সে সব বলে দেয়। ওই ছেলে জানায় আমার ছেলেও শমীমের শিকার হয়েছে। পরে ছেলের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সে সকল কথা খুলে বলে। এলাকার ইটের ভাটার নির্জণস্থানে নিয়ে আমার ছেলেকেও বলাৎকার করেছে শমীম। আমার ছেলেও যেন অসুস্থ্য না হয়ে পড়ে এজন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। লোক লজ্জার ভয়ে অনেকেই তাঁদের ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি লুকিয়ে যাচ্ছে। থানায় অভিযোগ করতেও চাচ্ছে না, এমনকি চিকিৎসার জন্য আসপাতালেও নিয়ে আসছে না। এমন অবস্থায় পুলিশই আমাদের এক মাত্র ভরসা। আমি শামিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, আর কেউ যেন ওই শামীমের শিকার না হয়। ’
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. উৎপলা বিশ্বাস বলেন, ‘বলাৎকারের শিকার হয়েছে এমন একটি শিশুকে দুপুর ১২টার দিকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জরুরি বিভগে নিয়ে আসে। শিশুটির অভিভাবকের নিকট থেকে জানতে পারি শিশুটি অন্তত দুই মাস পূর্বে বলাৎকারের শিকার হয়েছিলো। ঘটনার পর দুই মাস অতিবাহিত হওয়ায় শিশুটি এখন সম্পূর্ণ রয়েছে। যে কারণে শিশুটিকে জরুরি বিভাগ থেকে বর্হি বিভাগে সার্জারি কনসালটেন্টের নিকট রেফার্ড করা হয়।’
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল খালেক বলেন, ‘শামিম হোসেনের থেকে বলাৎকারের শিকার হয়েছে এমন আরও একটি বাচ্চার সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। অভিযুক্ত শামিম হোসেন পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের জোর চেষ্টা চলছে। অতি দ্রুত আসামি শামিমকে আটক করে আইনের আওতায় নেয়া হবে।’
কমেন্ট বক্স