ঈদ উপহারের টাকা যাচ্ছে কার পকেটে?
- আপলোড তারিখঃ
৩১-০৫-২০২১
ইং
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
দেশের মানুষ যাতে সকলেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সেই জন্য সরকার ঈদ উপহার হিসেবে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রত্যাককে ২৫ শ করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে এই উপহারে পড়েছে কালো থাবা। মোবাইলের টাকা মোবাইল থেকেই গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীদের অনেকেই। এই টাকা প্রতারকেরা হাতিয়ে নিচ্ছে দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলা থেকে। এমন অভিযোগ নিয়ে আসেন গাংনী উপজেলার সিন্দুরকোটা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম। প্রথমে বিশ্বাস না হলেও তাঁর পিড়াপিড়িতে তাঁকে পাঠানো হয় মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা মহিদুল ইসলামের কাছে।
উদ্যোক্তা মহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমি একটি স্মার্ট ফোনে নগদ অ্যাপ ইন্সটল করে তার অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট দেখলে দেখা যায় যে, গত ৫ মে তাঁর নগদ অ্যাকাউন্টে ২৫ শ টাকা এসেছে। পরে ১৩ মে তাঁর টাকা দুবারে ০১৫৫০-৬৬৯৬৫৩ নম্বরের নগদ অ্যাকাউন্টে ক্যাশ আউট হয়েছে। ওই নম্বরের মালিকের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট চাতুলবাজারে।’ এরপর অনুসন্ধানে জানা যায়, কোদাইলকাটি গ্রামের কম্পিউটার দোকানদার মিলন হোসেনের কাছে এমন আরও তথ্য আছে। যোগাযোগ করা হয় মিলন হোসেনের সাথে।
মিলন হোসেন জানান, ‘আমার কাছে অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন করতে আসে। কয়েকদিন আগে কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের টাকা উঠাতে আসলে দেখা যায় তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। পরে অ্যাপ ইন্সটল করে স্টেটমেন্ট চেক করে দেখা যায় কুমিল্লা থেকে টাকা উঠিয়ে নিয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে কোদাইলকাটি গ্রামের জাহা মণ্ডলের ছেলে বিপ্লব হোসেন, ঝোড়পাড়া গ্রামের রেজাউল হকের ছেলে জিনারুল ইসলাম ও একই গ্রামের মৃত মফেল উদ্দীনের ছেলে সেলিম রেজা।’
এবিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী খানম জানান, এমনটি হওয়ার কথা নয়। তবে যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে সেটা কোনো ইন্ডিভিজ্যুয়াল সমস্যা নয়। হয়তবা কোনো হ্যাকার চক্র অ্যাকাউন্টগুলোকে হ্যাক করে টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে অবশ্যই তারা ব্যবস্থা নিবেন।
কমেন্ট বক্স