বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

করোনাকালীন সহায়তার টাকা আত্মসাৎ : আন্দুলবাড়ীয়ায় সালিশ

  • আপলোড তারিখঃ ৩০-০৫-২০২১ ইং
করোনাকালীন সহায়তার টাকা আত্মসাৎ : আন্দুলবাড়ীয়ায় সালিশ
জাহিদুল ইসলাম মামুন: মহামারি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সারা দেশের মানুষের অবস্থা যখন কাহিল। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালীন সহায়তা ও ঈদ উপহার হিসেবে হতদরিদ্র, দুস্থ, গরীব, অসহায়-অস্বচ্ছল ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ প্রদানের ঘোষণা দেন। যেই টাকা বিকাশ কিংবা নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সবার মোবাইলে পৌছে যায়। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের হতদরিদ্ররা বিকাশ কিংবা নগদ অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার করে টাকা পেয়েছেন। অত্র এলাকার প্রায় সবাই ঠিকঠাকভাবে টাকা পেলেও প্রতারণার শিকার হয়েছেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে ৫নং ওয়ার্ডের বাজদিয়া গ্রামের উত্তরপাড়ার মানিক বিশ্বাস ওরফে মানিক সর্দ্দারের ছেলে সুজন সর্দ্দার। জানা গেছে, গত ৭ মে বা তার আগে সুজন সর্দ্দারের ব্যবহৃত ০১৮৬৪-০৯৪০৬৭ মোবাইল নম্বরের একটি অ্যাকাউন্টে করোনা সহায়তা ও ঈদ উপহার বাবদ মোট ৫ হাজার টাকা জমা হয়। সুজন সর্দ্দার একটু সহজ-সরল হওয়ায় আন্দুলবাড়ীয়া বাজারের মেসার্স নিউ ডিজিটাল টেলিকম, নিউ ডিজিটাল স্টুডিও এন্ড ফটোকপি দোকানের সত্বাধিকারি আহসান আলী ওরফে মাস্টার ও ছেলে সাঈদ হাসান বাপ্পীর কাছে এই টাকা তুলতে যান। এসময় সুজনকে শুধুমাত্র আড়াই হাজার টাকা প্রদান করেন বাপ্পী। বাপ্পী তখন জানান যে, সুজনের নামে শুধু আড়াই হাজার টাকা এসেছে। এতে সুজনের সন্দেহ হলে একজন টেলিকম ব্যবসায়ীকে দিয়ে তিনি তার অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্টসহ ব্যালেন্স চেক করে জানতে পারেন, গত ৮ মে রাত ১১টা ২০মিনিটে তার মোবাইলে নম্বরে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০০০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু সুজনের মোবাইলে এর আগে কোনো টাকা ছিল না। তাহলে ৫ হাজার টাকা উত্তোলন হলো কীভাবে? উত্তোলন হলে তো আড়াই হাজার টাকা হবে। এ ঘটনার পরে সুজন পুনরায় নিউ ডিজিটাল টেলিকমে গিয়ে সাঈদ হাসান বাপ্পীর কাছে নিজের অ্যাকাউন্টের পিন নাম্বার জানতে চাই। কারণ করোনা সহায়তা ও ঈদ উপহার বাবদ টাকা পাওয়ার জন্য সুজন মনোনীত হলে মোবাইল নাম্বারের অ্যাকাউন্টটি বাপ্পীই খুলে দিয়েছিলো। তখন বাপ্পী পিন নাম্বার না দিয়ে ধানাই-ফানাই করতে থাকে। একপর্যায়ে গতকাল শনিবার বিকেলে সুজন সর্দ্দারের সাথে বাপ্পী ও তার পিতা মাস্টারের তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। পরে এনিয়ে আন্দুলবাড়ীয়া বাজার কমিটির সভাপতিসহ নেতৃবৃন্দ অভিযোগের ভিত্তিতে রাত ১০টায় এক জরুরি শালিস সভায় বসেন। টানা আড়াই ঘন্টা শালিস শেষে বিষয়টি মিামংসা না হলে বাজার কমিটির সভাপতি মুন্সী আমিনুল বাশার কবু ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা হামিদুর রহমান শিলন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফিরোজ আহাম্মেদ, বাজার কমিটির সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী মিন্টু, সদস্য সেলিম উদ্দীন, রিপন খান, এনামুল হককে সদস্য করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। আজ রোববার এই তদন্ত কমিটি পুরো ঘটনা তদন্ত করে বাজার কমিটিকে জানালে তবেই সালিশের রায় ঘোষণা করা হবে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’