অল্প সময়ে স্বল্প খরচে নির্মাণ করা যাবে বাড়ি
- আপলোড তারিখঃ
২৪-০৫-২০২১
ইং
জীবননগরে পরিবেশবান্ধব সিমেন্টের ইট তৈরি কারখানার উদ্বোধন
প্রতিবেদক, মনোহরপুর:
জীবননগরে পরিবেশবান্ধব সিমেন্টের ইট তৈরি কারখানার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামে জাহান সিমেন্ট ব্রিকস নামে এ কারখানার উদ্বোধন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সদস্য মাহবুবুর রহমান ছোট্টুর সভাপতিত্বে সড়ক ও জনপদ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ আহসান আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে জাহান ব্রিকস লিমিটেড সিমেন্টের ব্লকের ইট তৈরি কাজের শুভ উদ্বোধন করেন।
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ আহসান আলী বলেন, ‘ব্যবসার জন্যই আমরা সিমেন্টের তৈরি ইটের ব্লক ব্যবহারের কথা বলছি না। পরিবেশ বাঁচাতে এর বিকল্প নেই। সিমেন্টের তৈরি ইটের ব্লকের প্রয়োজনীয়তা এখন সবাই বুঝতে পারছে। এ জন্য সারা দেশে ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ব্লকের ইট উৎপাদন করছে। সরকার এরই মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। তাই বর্তমানে যারা মাটি পুড়িয়ে ইট করছে, তাদের পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদনে যেতে হবে। আর ব্যবসায়ীরা এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন, সামনে পোড়ানো ইট থাকবে না।’
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জাহান গ্রুপের চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার জাহান। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন খাঁন সুরোদ্দীন ও উথলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উথলী ইউপি সদস্য আলতাফ হোসেন, সেলিম উদ্দীন, মঈনুল, মনোহরপুর ইউপি সদস্য রিপন হোসেন, ইদবারী, জাফিরুল ইসলাম, চ্যামেলী খাতুন, কামরুজ্জামান, মহিলা সদস্য রাশিদা, লুইস, জাহিমা খাতুন, কেডিকে ইউপি সদস্য মিঠু, ঝণ্টু, ছদরুল প্রমুখ।
জানা যায়, এ কারখানায় বালু, আই ফ্লাস, কয়লার ডাস্ট, সিমেন্ট, পাথরকুচি দিয়ে ইট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই কারখানাটি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সাহায্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অ্যাশ, বালু, সিমেন্ট ও পাথরেরকুচি মিশিয়ে যন্ত্রটির চাপে তৈরি করা হচ্ছে ইট। এসব ইট শুধু রোদে শোকাতে হবে। পোড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না। কারখানার ভাইব্রো ক্যাভিটি নামের যন্ত্রে প্রতি ৮ ঘণ্টায় ২০ হাজার ইট তৈরি করতে পারে। এই কারখানায় ইট তৈরিতে আনুপাতিক হারে ৪০ শতাংশ ফ্লাই অ্যাশ, ৪০ শতাংশ বালু, ১৫ শতাংশ সিমেন্ট ও ৫ শতাংশ পাথরকুচি ব্যবহার করা হয়। এই কারখানায় উৎপাদনে লোকবলও অন্যান্য ভাটার তুলনায় কম ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় ক্ষতির দিকগুলো খুবই কম বলেও জানা গেছে। পরিবেশবান্ধব, টেকসই, দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় অল্প সময়ে স্বল্প খরচে বাড়ি নির্মাণসহ ইট ব্যবহারের মতোই সব ধরনের কাজই করা যাবে বলে প্রত্যাশা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
জাহান গ্রুপের স্বত্ত্বাধিকারী ও জেলা পরিষদের সদস্য মাহবুবুর রহমান ছোট্টু বলেন, পরিবেশ বাঁচাতে পরিবেশবান্ধব ইটের কোনো বিকল্প নেই। এ চিন্তা থেকেই এই কারখানা চালু করেছি। এতে মাটি ব্যবহার না হওয়ায় ফসলি জমি রক্ষা পাচ্ছে। এছাড়াও জ্বালানি কাঠ, গাড়ির পুরোনো টায়ার, রাবার না পোড়ানোয় মারাত্মক ক্ষতি থেকে পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে। সরকারি কাজে ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ বাধ্যতামূলক এ ইট তৈরির নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। পরবর্তীতে ২-৪ বছরে শতভাগ কাজে এ ইট ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে জানা গেছে। এই ইটে কখনও লোনা পরবে না। দেশের অধিকাংশ জেলায় এই ইটের ব্যবহার শুরু হয়েছে ধীরে ধীরে এ ইটের ব্যাপক চাহিদা বাড়বে বলে আমি মনে করি।
কমেন্ট বক্স