চুয়াডাঙ্গায় গত দুদিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৫
- আপলোড তারিখঃ
০৩-০৫-২০২১
ইং
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত দুইদিনে চুয়াডাঙ্গার পৃথকস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় এই পাঁজনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার মোচাইনগর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে কালাম হোসেন (৪৫), একই উপজেলার ৭ নম্বর জেহালা ইউনিয়েনের রোয়াকুলি গ্রামের বদরগঞ্জপাড়ার মৃত কিয়াম উদ্দীনের ছেলে আক্তার হোসেন নাণ্টু (৫৫), সদর উপজেলার ১০ মাইল বদরগঞ্জ গ্রামের মৃত জলিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল বারেক (৬৫), পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার নতুনহাট গ্রামের আলাম মল্লিকের ছেলে তরমুজ ব্যবসায়ী মামুন মল্লিক (৩০), একই এলাকার বাবু মল্লিকের ছেলে পিণ্টু মল্লিক (৩০)।
জানা যায়, গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার মোচাইনগর গ্রামে নিজ আলমসাধুর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের প্রাচিরের সঙ্গে ধাক্কা মারেন কালাম হোসেন। এসময় তাঁর একটি পা গুরুতর জখম হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
এদিকে, গত শনিবার দুপুরে পাখিভ্যানযোগে নিজ বাড়ি বদরগঞ্জ থেকে খাড়াগোদা গ্রামে কৃষিজমির ফসল দেখতে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ আব্দুল বারেক। পথেরমধ্যে খাড়াগোদা বাজারে পৌছালে পাখিভ্যানের চাঁকার সঙ্গে তাঁর লুঙ্গি জড়িয়ে যায়। এতে রাস্তার ওপর আছড়ে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন তিনি। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
অপরদিকে, গত শনিবার ঈশ্বরদী থেকে মোটরসাইকেল যোগে চুয়াডাঙ্গা এসেছিলেন তরমুজ ব্যবসায়ী মামুন মল্লিক ও পিণ্টু মল্লিক। চুয়াডাঙ্গা থেকে তরমুজ কেনার জন্য সরোজগঞ্জের একটি তরমুজ ক্ষেতে যাচ্ছিেেলন তাঁরা। পথেরমধ্যে ডিঙ্গেদহ হাটখোলা বাজারে পৌঁছালে সামনে থাকা অপর একটি মোটরসাইকেলর সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে গুরুতর জখম হয়। এসময় স্থানীয় ব্যক্তিরা আহতদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
অন্যদিকে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ রেলগেট বাজার থেকে নিজ বাড়ি রোয়াকুলিতে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ নাণ্টু। পথের মধ্যে নিগার সিদ্দিক কলেজের অদূরে অবস্থিত সেলিম চেয়ারম্যানের ইটের ভাটার সামনে পৌঁছলে খোয়া ভর্তি একটি ট্রাক্টর হঠাৎ করেই রাস্তার মধ্যে চলে আসলে মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর জখম হন নাণ্টু। সংঘর্ষে তাঁর ডান হাতটি সম্পূর্ণ কেটে ঝুলে যায়। স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান বৃদ্ধকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
৭ নম্বর জেহালা ইউনিয়েনের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর মতিয়ার রহমান জানান, ‘সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ রেলবাজারে অবস্থিত নিজ দোকানে ইফতার করে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন বৃদ্ধ নাণ্টু। পথিমধ্যে সেলিম চেয়ারম্যানের ইট ভাটার সামনে পৌঁছালে ইট ভাটার একটি খোয়া ভর্তি ট্রাক্টর কোন সর্তক্যতা বাতি না জালিয়েই রাস্তার মধ্যে উঠে আসলে রাস্তা দিয়ে যাওয়া নাণ্টুর মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডাক্তার ঢাকায় রেফার্ড করেছে। রাতেই নাণ্টুকে ঢাকায় নেওয়া হবে।
জখম নাণ্টুর বিষয়ে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাজিদ হাসান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় জখম বৃদ্ধর একটি হাতসহ শরীরের বিভিন্নস্থনে গুরুতর জখম হয়েছে। তাঁর হাতটি কেটে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাঁর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এজন্য জরুরি বিভাগ থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
কমেন্ট বক্স