অভিযুক্ত এক শিশু হাসপাতাল থেকে থানায়; অবশেষে গেল বাড়ি!
- আপলোড তারিখঃ
২৮-০৪-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের গোসলখানা থেকে সাওয়ার চুরির ঘটনা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের গোসলখানার সাওয়ারসহ একটি শিশুকে হাতেনাতে ধরেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের আইসোলেশন ওয়ার্ডে থেকে তাঁকে ধরা হয়। পরে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের হেফাজতে দেয়। সদর থানা কর্তৃপক্ষ গতকালই বিষয়টি অবগত করে শিশুটিকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়ে দেয়। তবে এ ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. এএসএম ফাতেহ আকরামের সমালোচনা করেন। স্থানীয় একজন সাংবাদিক তাঁর ফেসবুক আইডিতে শিশুটিকে আরএমও’র অফিস রুমে নেওয়া হচ্ছে এমন ছোট্ট ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করলে, অনেকেই আরএমওকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
জানা যায়, বেশকিছু দিন ধরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর থেকে বেসিনের ট্যাপ, ওয়াশরুমের শাওয়ারসহ বিভিন্ন ছোট ছোট সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে নজর রাখা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় দুই শিশুর বিচরণ দেখে তারা রোগীদের কাছে এসেছে জানতে চাইলে তারা কিছুই বলতে পারে না। তাদের জামা ও প্যান্টের পকেট উঁচু হয়ে থাকতে দেখে পকেটে কী আছে জানতে চাইলে দুই শিশুর মধ্যে এক শিশু পালিয়ে যায়, অন্য শিশুটির পকেট থেকে দুটি স্টিলের বাথরুমের শাওয়ার উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার কক্ষে নেওয়া হয়।
এবিষয়ে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘বেশকিছু দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের ছোট ছোট বিভিন্ন সামগ্রী চুরি হয়ে যাচ্ছিল। আজ দুইটি শিশুকে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে ওয়াশরুমের সাওয়ারসহ ধরা হয়। এরমধ্যে একটি শিশু পালিয়েও গেছে। অপরজনকে আমার কক্ষে এনে জিজ্ঞাসা করা হয়, কিন্তু সে কান্না করতে থাকে, তার পরিবারের কারও মোবাইল নম্বর দিতে পারেনি। আমরা তাকে পানি পর্যন্ত খাইয়েছি, শান্ত করার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু শিশুটি কান্না থামায়নি। এ ধরণের ছোট ভুল থেকে সে যেন বড় অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে কারণে শিশুটির সঠিক কাউন্সিলিং প্রয়োজন। শিশুটির এই ভুল কাজগুলো সম্পর্কে তার পরিবারের সদস্যদের অবগত হওয়া উচিৎ। বাঁচ্চাটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য এবং এ ঘটনা সম্পর্কে তাঁদেরকে অবগত করার জন্য শিশুটিকে সদর থানা পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।’
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ খান ফকরুল আলম খান বলেন, ‘সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি শিশুকে হাসপাতালের ওয়াশরুমের দুটি সাওয়ারসহ ধরে। হাসপাতাল থেকে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। শিশুটি তার পরিবারের কোনো সদস্যের মোবাইল নম্বর বলতে না পারায় হাসপাতলের আরএমও ডা. ফাতেহ আকরাম শিশুটিকে সদর থানা পুলিশের জিম্মায় দেয়। যেহেতু অভিযুক্ত একজন শিশু, তাই শিশুটির অভিভাবককে থানায় ডেকে বিষয়টি অবগত করে ও কাইন্সিলিং-এর পরে শিশুটিকে তাঁর মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়।’
কমেন্ট বক্স