মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ অনিশ্চিত
- আপলোড তারিখঃ
২৬-০৪-২০২১
ইং
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি’র ফরম পূরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষককের অবহেলাকে দায়ী করলেও প্রধান শিক্ষক বলছেন, সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভুলের জন্য এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ জন্য ১১ এপ্রিল সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বোর্ডের ও প্রতিষ্ঠানের ফিস আদায়ের জন্য সোনালী ব্যাংকে হিসাব খোলার জন্য নোটিশ প্রদান করে। সেইসাথে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত ব্যাংকের হিসাব নম্বর যাচাই করে অনলাইনে আপলোড করার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বলা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে খোলা সোনালী ব্যাংকের হিসাব নম্বর আপলোডে ভুল-ভ্রান্তি সংশোধনের জন্য ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ফরম পূরণ বন্ধ রাখা হয় এবং ১৯ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়ায় ফরম পূরণের সময় বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু ৬ দিন পার হয়ে গেলেও মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজারুল ইসলাম বিদ্যালয়ের নামে সোনালী ব্যাংকের হিসাব নম্বর ঠিক করতে না পারায় ফরম পূরণ করতে পারছে না পরীক্ষার্থীরা। যেখানে উপজেলার অন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শেষ পর্যায়ে, সেখানে মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা শুরুই করতে পারেনি ফরম পূরণ। বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণের বাকি আছে আর মাত্র চার দিন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকবৃন্দ। এ বিষয়ে তাঁরা প্রধান শিক্ষককে বারবার বললেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষক প্রতিদিনই বলছেন, আজকেই ঠিক হয়ে যাচ্ছে, এখনই ঠিক হবে, কোনো সমস্য নেই, কাল থেকে ফরম পূরণ করতে পারবেন বলে বিগত ৬ দিন যাবৎ ঘুরাচ্ছেন অভিভাবকসহ পরীক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে মুজিবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইজারুল ইসলাম বলেন, ‘সমস্যাটা আমাদের না ব্যাংকের। আমরা যশোর বোর্ডের অনলাইনের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়েছিলাম, তারা ডিলেট করে ফেলেছে। আবার তারা দিতে বললে, দিয়েছি। কিন্তু আবার তারা ডিলেট করে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি ছিল, তাই রোববার সকালে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ব্যাংক ম্যানাজার বললেন, আপনাদের একাউন্ট নম্বরে সমস্যা ছিল, ওটি ইনঅ্যাকটিভ হয়ে গেছিল, আমি ঠিকঠাক করে দিচ্ছি। সকালে আমরা ঠিকঠাক করে বোর্ডের অনলাইনে দিয়ে এসেছি, এখন দেখা যাক কখন ঠিক হয়।’
এ বিষয়ে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন জানলাম, আমি প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে বিষয়টি দেখছি।’
কমেন্ট বক্স