বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

অভিমানে ছেলের আত্মহত্যা!

  • আপলোড তারিখঃ ১৯-০৪-২০২১ ইং
অভিমানে ছেলের আত্মহত্যা!
ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে বাধাঁ দিলেন পিতা রুদ্র রাসেল: ‘আমার ছেলে ঠিক সময়ে নামাজ পড়ে, রোজা রাখছে। এবার এসএসসি পরীক্ষাও দেবে। কিন্তু মোবাইল ফোন নিয়ে সারাদিন ফ্রি ফায়ার গেম খেলে। সময় মতো খাওয়া-দাওয়া করে না। শুধুমাত্র এই একটা কারণেই আমি তাঁকে বকাঝকা করি, আর অন্য কোনো কারণ নেই। এই ফ্রি ফায়ার গেমের কারণে আমার ছেলে আমার কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। আর কারও ছেলে যেন ফ্রি ফায়ার গেম না খেলে। কোনো বাবার বুক যেন এভাবে শূন্য না হয়।’ চুয়ডাঙ্গা সদর হাসপাতালের লাশঘরের সামনে দাঁড়িয়ে এসব কখা বলতে বলতে চোখের পানি ফেলছিলেন আত্মহত্যাকারী অন্তর হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরের পিতা আইয়ুব আলী। গত শনিবার রাত তিনটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় কিশোর অন্তর হোসেনের। কিশোর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের কুন্দিপুর গ্রামের পালপাড়ার আইয়ুব আলীর ছেলে ও কুন্দিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। আত্মহত্যাকারী অন্তরের নিকটাত্মীয় (দাদা) হারেজ শেখ জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় ইফতার শেষে অন্তর নামাজ পড়ে এসে মোবাইল নিয়ে ফ্রি ফায়ার গেম খলেতে শুরু করে। এসময় পিতা আইয়ুব আলী অন্তরকে খাবার খেয়ে নিতে বলেন। অন্তর খাবার না খেয়ে গেম খেলতেই থাকে। কিছুক্ষণ পরে আইয়ুব আলী গেম খেলার জন্য অন্তরকে বকাঝকা করেন। এসময় অন্তর অভিমান করে বাড়ির বাইরে চলে যায়। রাত ১১টার দিকে সে বাড়িতে ফিরলে পরিবারের সদস্যরা তাঁর বিষপানের বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় একটি চিকিৎসকের কাছে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে দ্রুত তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ২টার দিকে অন্তরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে অন্তর মারা যায়। এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাপসাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে পরিবারের সদস্যরা অন্তর নামের একটি ছেলেকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। তাঁরা জানায় রোগী বিষ খেয়েছে এবং স্থানীয় এক চিকিৎসকের নিকট থেকে ওয়াশও করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় অন্তরের অবস্থা গুরুতর ছিল। বিষপানের ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে তাঁকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগ থেকে অন্তরকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’ চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, ‘ফ্রি ফায়ার গেম খেলার কারণে পিতার বকাঝকা করলে অভিমান করে অন্তর নামের ওই কিশোর বিষপান করে। শনিবার রাত তিনটার দিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ও তাঁদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের লাশ দাফনের অনুমতি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনলাইন, মোবাইল বা ভিডিও গেমে আসক্তি একটি মনঃস্বাস্থ্য সমস্যা। মাদকাসক্তির মতো ইন্টারনেটে মাত্রাতিরিক্ত থাকা বা গেম খেলাও আসক্তি। এটা আচরণগত আসক্তি। কেবল সচেতনতাই পারে এই আসক্তি থেকে মুক্ত করতে। আমাদের দেশে সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে শিশু-কিশোররা ফ্রি ফায়ার, পাবজিসহ বিভিন্ন মোবাইল গেমের ওপর আসক্ত হয়ে পড়ছে। পিতা-মাতাদের সচেতনতায় পারে এই আসক্তি থেকে তাঁদের শিশু-কিশোরদের মুক্ত করতে। তবে চাপ প্রয়োগ করে বা মারধর করে এই আসক্ত থেকে কাউকে মুক্ত করা যাবে না। এতে পরিস্থিতি বিপরীত হতে পারে।’


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’