বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

যেন চাঁদরাতের বাজার

  • আপলোড তারিখঃ ১৪-০৪-২০২১ ইং
যেন চাঁদরাতের বাজার
সমীকরণ প্রতিবেদক: কঠোর লকডাউন ঘোষণায় গ্রামসহ শহরের মানুষ বিচলিত জীবন ধারণের জন্য। কীভাবে তারা বাঁচবে এই আশায় যেন দিশেহারা। তাই ঘরে যা কিচু সঞ্চয় আছে তাই নিয়ে কেনাকাটায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এতে শহরের প্রায় সব দোকানে উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে মহিলা ক্রেতাদের ভিড় সামাল দেওয়া কষ্ট। দেখ মনে হচ্ছে যেন চাঁদরাতের বাজার। চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার বড় বাজারের ভেতরে পা রেখেই গতকাল মনে হয়েছিল আজ বুধবার বুঝি ঈদুল ফিতর। চাঁদরাতে যেমন প্রতিটি দোকানে, অলিগলিতে ভিড় লেগে থাকে ঠিক তেমন চিত্র। ভিড় রয়েছে বাজারের বাইরে মূল সড়কের পাশের দোকানগুলোতেও। বাজারে এক মুদি দোকানে ফর্দ মিলিয়ে ব্যাগে পণ্য ভরছিলেন ক্রেতা আলাউদ্দিন। চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা কোনো কিছুই যেন বাদ যায়নি। জানতে চাইলে বললেন, ‘রোজায় কিছুটা বাড়তি পণ্য লাগে। তার ওপর কাল শুরু হচ্ছে লকডাউন। বাজারের কী অবস্থা হয় বোঝা যাচ্ছে না।’ তাঁর মতোই লম্বা ফর্দ নিয়ে আরো সাত-আটজন ক্রেতা দোকানের সামনে দাঁড়ানো। জেলার বড় বাজার পুরাতন গলি, নিউ মার্কেট, প্রিন্স প্লাজা, আব্দুল্লা সিটিতে গতকাল ছিল একই অবস্থা। দিনভর হুলুস্থুল কেনাকাটা চলেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও ছিল একই অবস্থা। আজ বুধবার শুরু হওয়া আট দিনব্যাপী লকডাউনে কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাজারে তেমন বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়নি। শুধু সময় কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, এখন যেভাবে দোকান সাজানো হয়েছে কালও (আজ) সেভাবেই সাজানো যাবে। দূরত্বের বিষয়েও তেমন কোনো বাড়তি নির্দেশনা দেওয়া হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। রমজান আর লকডাউনের কারণে হঠাৎ বাড়তি কেনাকাটার চাপে পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। মাছ, মাংস, সবজি, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তি দেখা গেছে প্রায় সব বাজারেই। দামের ক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেওয়া সীমা মানছেন না বিক্রেতারা। অথচ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও বাজার ঘুরে পণ্য সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। মেহেরপুর: আটদিন লকডাউন। গতকাল তাই যেন ঢল নামল মেহেরপুরের বাজারে। বিভিন্ন এলাকাতেই কার্যত স্বাস্থ্য-বিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চাল-ডাল থেকে শুরু করে পোশাকের দোকান পর্যন্ত ভিড় ঠেলে কেনাকাটা করলেন জেলার বাসিন্দারা। মেহেরপুর শহরে গতকাল সকাল ৭টা বাজতেই ভিড় জমে যায় দোকান গুলোতে। বেশি ভিড় দেখা যায় মাছ ও মাংসের বাজারে। গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েই অনেককে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। লাইন পড়ে পোশাকের দোকানেও। অনেকের মুখে ‘মাস্ক’ ছিল না বলেও অভিযোগ। ভিড় দেখা যায় মিষ্টির দোকানগুলিতেও। ঝিনাইদহ: কঠোর লকডাউন ঘোষণায় গ্রামসহ শহরের মানুষ বিচলিত জীবন ধারণের জন্য। কীভাবে তারা বাঁচবে এই আশায় যেন দিশেহারা। তাই ঘরে যা কিচু সঞ্চয় আছে তাই নিয়ে কেনাকাটায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এতে শহরের প্রায় সব দোকানে উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে মহিলা ক্রেতাদের ভিড় সামাল দেওয়া কষ্ট। দেখ মনে হচ্ছে আর কখনো দোকানপাট খুলবে না। পলি বেগম এসেছেন হরিণাকুণ্ডুর চাঁদপুর গ্রাম থেকে। কঠোর লকডাউন আর নাও উঠতে পারে এমন শঙ্কা থেকে তিনি বাচ্চাদের জামাকাপড় ও সংসারের যাবতীয় জিনিস কিনতে এসেছেন। গৃহবধূ আফরোজা জানান, পহেলা বৈশাখ ও ঈদের কেনাকটা করতে তিনি মার্কেটে এসেছেন। সব মহিলারা জানালেন করোনার ভয়াবহ প্রকোপ ও লকডাউনের কারণে দোকানপাট বন্ধ দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। ফলে মানুষ আর বাইরে বের নাও হতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার ঝিনাইদহ শহরের কাপড়ের দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। যেখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। মাস্ক ছাড়া গাদাগাদি করে কেনা-বেচা করছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। এ অবস্থা শহরের মুন্সী মার্কেট, গীতাঞ্জলী সড়কসহ বিভিন্ন বিপনিবিতান ঘুরে দেখা গেছে, মাস্ক ছাড়াই অভিভাবকদের সঙ্গে শপিংমলে ঘুরছে শিশুরা। তবে করোনা প্রতিরোধে প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পোশাক কিনতে আসছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা। শহরের হামদহ থেকে আসা রাহেলা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘কালকের দিন পরে তো সব বন্ধ করে দেবেনে, তাই বাচ্চাগের জন্নি কাপুড় কিনতে আইচি’। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম বলেন, আজও ঝিনাইদহে নতুন করে ২৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সোমবার দুই নারী মারা গেছেন। করোনার এই পরিস্থিতিতেও মানুষ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও দোকান-পাটে ভিড় করছে। এতে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, মানুষের বাইরে আসা, স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও মানুষকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’