আবহাওয়া উত্তপ্ত, ধানের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা
- আপলোড তারিখঃ
১১-০৪-২০২১
ইং
সোহাগ মণ্ডল, মুজিবনগর:
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় মাঠে ধানের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ধানের গাছে থোর বের হওয়ার পরপরই ধানের শীষের রঙ সাদা হয়ে চিটে পড়ছে। গত কালবৈশাখী ঝড়ের পর থেকে ধান গাছে এ রোগের দেখা মিলেছে বলে দাবি করছেন এলাকার কৃষকেরা।
মুজিবনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ভাল ফসলের আশা করছিল কৃষকেরা। তবে ধানের ডগা মরা রোগ নাকি ধানে ব্লাস্ট রোগ হতে যাচ্ছে তা নিয়ে কৃষকের দুঃচিন্তা কমতি না থাকলেও মুজিবনগর কৃষি অফিস পরামর্শ দিচ্ছেন ধানের তাপমাত্রা দুর করে ফসল ঘরে তুলতে কুলিং সিস্টেমের।
মুজিবনগর উপজেলার ভবেরপাড়া গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, ‘এ মৌসুমে তিনি তিন বিঘা জমিতে ২৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। ক্ষেতের ধান দেখে তিনি আশায় বুক বেঁধেছিলেন এ মৌসুমে কাঙ্খিত ফলন পাবেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর জমির ধানের ডগা সাদা হয়ে চিটে হতে দেখে তিনি দুঃচিন্তায় আছেন। আশঙ্কা করছেন ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। একই আশঙ্কায় রয়েছেন হায়দার আলীসহ মুজীবনগরের শত শত কৃষক।
এবিষয়ে জানকে চাইলে মুজিবনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান খান বলেন, আমার মনে এটি ধানের ‘হিট শক’ রোগ। অন্যান্য বছরে এ সময় অল্প বৃষ্টি হয়ে থাকে। এবছর তেমন কোন বৃষ্টি হয়নি। এ মুহূর্তে জমিতে অন্তত ২-৩ ইঞ্চি পানি রাখতে হবে। যাতে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও পানি থাকায় তা কুলিং সিস্টেম হিসেবে কাজ করে। ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে যদি তাপমাত্রা রাখা যায়, তাহলে এ সমস্যা হবে না। তবে যেখানে ঝড় হয়েছে, সেখানে পাতাপোড়া রোগ হতে পারে। তিনি কৃষকদের সতর্ক করে আরও বলেন, ওইসব এলাকায় ৬০ গ্রাম এমওপি সার ও ৬০ গ্রাম থিওভিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকেলে ৫ শতক জমিতে স্প্রে করতে হবে।’
কমেন্ট বক্স