মেহেরপুরে নিত্যপণ্যের বাজারে রোজার উত্তাপ!
- আপলোড তারিখঃ
০৪-০৪-২০২১
ইং
প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নিত্যপণ্যের বাজারে এখনই দেখা যাচ্ছে রোজার উত্তাপ। ছোলা থেকে শুরু করে ভোজ্যতেল, খেজুর, চিনি, ডাল, পেঁয়াজ, গরু ও মুরগির মাংস, গুঁড়া দুধ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। অসাধু সিন্ডিকেট গত একমাসেই ধাপে ধাপে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। আর এই দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি বলে দাবী করছেন সাধারণ জনগণ। একদিকে করোনায় কর্মসংকোচন, অন্যদিকে পণ্যমূল্য বেশি-সব মিলিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। গতকাল শনিবার সরেজমিনে মেহেরপুর বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এমনি দৃশ্য দেখা গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, তাই আমাদের বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতিবছর রোজাকে সামনে রেখে এক মাস আগে থেকেই রমজানে ব্যবহৃত পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় কিছু অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী।
শহরের বড় বাজার, হোটেল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের ক্রেতারা জানান, প্রতি কেজি সয়াবিন তেল খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, যা কয়েক দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৯২ টাকায়। আর গত বছরে এই সময় বিক্রি হয়েছিল ৯৫ টাকায়। ডালডার দামও একই, আটা-ময়দার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায় যা এক মাস আগে ছিল ৫৭ টাকা। ছোলা ৮০ টাকা যা গত বছর বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকায়। কাঁচা সবজির ভিতরে রয়েছে বেগুন ৪০ টাকা, ১ মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা কেজি দরে। আলুর কেজি ৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি হয়ে বর্তমানে ১৮ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজ, রসুনসহ সবরকম সবজির মূল্য কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও ডিম, মাছ, মুরগির দাম বেড়েছে নিয়ন্ত্রণহীন। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এক মাস আগে ছিল ৯০ টাকা কেজি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি। সোনালী মুরগি ১৮০ টাকা থেকে এক লাফে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩২০ টাকা। খাসি ও গরুর মাংস প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আদা, রসুন, হলুদ, গরম মসলা ও চালের বাজারও লাগামহীন। এছাড়াও খেজুর প্রকারভেদে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
সামসুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা জানান, এবার রোজায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের ইফতারের সাথে বাড়তি শরবত ও ফল যোগ করা স্বপ্ন হয়ে দাঁড়াবে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম সমীকরণকে বলেন, ‘করোনা মহামারী ও রমজানের সময় পণ্যের দাম নিয়ে যাতে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে না হয়, সেজন্য প্রস্তুতি রয়েছে। বাজার মনিটরিং কমিটির নির্ধারিত পণ্য মূল্যের চেয়ে বেশি দরে বিক্রি যাতে না হয়, তার জন্য প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।’
কমেন্ট বক্স