দর্শনা অফিস: পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামের কীটনাশক বিক্রেতা এনামুল হক সোনা মিয়ার ঔষধের কারণে আমের গুটি নষ্ট হয়েছে এ অভিযোগ তুলে কৃষক জাহিদুল থানায় অভিযোগ করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে তোলপাড় হয়ে উঠেছে এলাকা। পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানা অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে উপ-সহকারী কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম পর্যবেক্ষন করেছেন। আগামী রবিবার উভয় পক্ষের সাথে স্থানীয় ভাবে শালিস বৈঠকের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পারকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে এনামুল হক সোনা গত ১৭মার্চ একই গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলামের নিকট স্কয়ার কোম্পানীর ছত্রাক নাশক ইমপেল ও গোল্ডাজিন ঔষাধ বিক্রী করে। জাহিদুল ইসলাম তার এক বিঘা আমের বাগানে ঐ ঔষাধ স্পে করেন। এবং ঔষাধ স্পে করার পর গত ১৯মার্চ সোনার দোকানে এসে অভিযোগ করে তোমার ঔষাধের কারণে আমার বাগানের আমের মুকুল নষ্ট হয়েছে এই বলে দামুড়হুদা থানায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে অভিযোগ করে। এঘটনার পর এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম জাহিদুল ইসলামের আমের বাগান পর্যবেক্ষন করে বলেন, ঔষাধ স্প্রে করার ১৫/২০দিন আগে ঐ বাগানে ছত্রাক লেগেছে। ফলে আগে থেকেই আমের গুটি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া তিনি ছত্রাক নাশক ইমপেল ও গোল্ডাজিন এর মেয়াদ ঠিক আছে কিনা দেখেন। ঔষাধের মেয়াদও ঠিক ছিলো। এছাড়া তিনি আরো বলেন, ঐ একই ঔষাধ এলাকার অন্যান্য কৃষকরা ভাল ফলাফল পেয়েছে। ঐ ঔষাধের কোন ত্রুটি ছিলো না। এছাড়া স্কয়ারের রিপ্রেজেন্টেটিভ নাজিমুদ্দিন জানান,আমাদের ঔষাধের কোন ত্রুটি নেই। এলাকার বেশির ভাগ কৃষক আমাদের ঔষাধ ব্যবহার করে ভাল ফলাফল পেয়েছে। এদিকে অভিযোগকারী কৃষক জাহিদুল ইসলামের নিকট ঘটনাটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বুঝতে পাছিনা ঔষাধের কারণে হয়েছে কিনা। তবে ঔষাধ দেওয়ার ৩/৪দিন পর বাগানে গিয়ে দেখি আমের গুটি সব নষ্ট হয়ে গেছে। ওসব আমরা মিটিয়ে ফেলবো। থানায় অভিযোগ করা হলো কেন এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন সবার সাথে বসে মিটিয়ে ফেলবো। এদিকে ঔষাধ বিক্রেতা এনামুল হক সোনা বলেন, আমি একজন কীটনাশক ব্যবসায়ী আমি কিভাবে বলবো কেন তার আমের গুটি নষ্ট হয়েছে। বিষয়টি কোম্পানীর বুঝবে। তাছাড়া আমিতো মেয়াদ উর্ত্তীন ঔষাধ বিক্রী করিনি। আমার দোষ কোথায় আমার বিরুদ্ধে কেন থানায় অভিযোগ করা হলো ? গত এক সপ্তাহ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও আজ পর্যন্ত ঘটনাটির সুরাহ হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আগামী ২রা এপ্রিল রবিবার উভয় পক্ষ বসে সমাধান করবেন বলে জানা গেছে। আগামী ২রা এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ঐদিন কি সমাধান হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন