নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালকরা। গতকাল রোববার সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া বাজারে পাখিভ্যান আড় করে অবরোধ করেছে তারা। গত বুধবার আগামী সাত দিনের মধ্যে ১০ জেলার মহাসড়কে নছিমন করিমন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ফলে চুয়াডাঙ্গার সড়কে চলাচলের সময় তিনচাকার বেশকয়েকটি যান আটক করে পুলিশ। তার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আলুকদিয়া বাজারে সমবেত হয় ব্যাটারীচালিত পাখিভ্যান চালকরা। সড়কে ভ্যান আড় করে দিয়ে অবরোধ করে তারা। এসময় বেশকয়েকটি যাত্রীবাহী বাস আটকা পড়ে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। দীর্ঘ প্রায় ৪ ঘন্টা পর বেলা ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
গত বুধবার থেকে চুয়াডাঙ্গায় ৫ দফা দাবীতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলো পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তাদের দাবিগুলো হলো চুয়াডাঙ্গা জেলায় যেসব সড়কে বাস চলাচল করে সেসব সড়কে নিবন্ধন, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন থ্রি-হুইলার গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, ভটভটি, নসিমন, করিমন, লাটাহা¤॥^ার, আগলামন, পাখিভ্যানে যাত্রীবহন বন্ধ করা, ইজিবাইকের চলাচল পৌর এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা, জেলার বিভিন্ন সড়কে স্থাপিত গতিরোধক ও অবৈধ হাট-বাজার অপসারণ করা, চুয়াডাঙ্গা জেলায় অতিসত্ত্বর ট্রাক টার্মিনাল তৈরি করা। এক বৈঠকে তাদের দাবী মেনে নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন চুয়াডাঙ্গার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার। ফলে পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে।
গত বুধবার আগামী সাত দিনের মধ্যে ১০ জেলার মহাসড়কে নছিমন করিমন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ২২ জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশাসহ তিন চাকার সব ধরনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জানিয়েছেন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে এসব যানবাহন বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আদালতের রায়ের কপি পাওয়ার পর আবারও একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আদালত এবার পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে অবৈধ যানবাহন বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের সহযোগিতা নিয়ে সবাই মিলে এ কাজটি করবে।
আদালতের নির্দেশে চুয়াডাঙ্গা সড়কে অবৈধযান চলাচল বন্ধ করেছে পুলিশ। এর মধ্যে গত কয়েকদিনে নির্দেশ উপেক্ষা করে শহরে প্রবেশকারীদের গাড়ি আটক করে পুলিশ। একইসাথে চুয়াডাঙ্গা শহরে তাদেরকে প্রবেশেও বাঁধা দেয় তারা। তার প্রতিবাদে গতকাল রোববার সড়কে এলোমেলোভাবে পাখিভ্যান রেখে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় বেশকয়েকটি বাস আটকা পড়লে যাত্রিরা চরম দুর্ভোগ পোহান। অনেকেই বোঝা মাথায় নিয়ে হাঁটা জুড়েছেন।
খবর পেয়ে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই জসিম উদ্দীন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৃণাল কান্তি দে, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুলক কুমার ম-ল, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোজাম্মেল হক, গোয়েন্দা পুলিশের ওসি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আমির আব্বাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে গিয়ে সড়ক অবরোধ তুলে দেন। এসময় বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলেন কর্মকর্তারা। বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবীর কথা জানালে কর্মকর্তারা তাদেরকে শহরের সড়ক ব্যাতিত স্থানীয় পার্শ্ব সড়কে চলাচলের পরামর্শ দেন। প্রশাসনের পরামর্শ মেনে নিয়ে প্রায় চার ঘন্টা পর বেলা ১২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সমীকরণ প্রতিবেদন