দর্শনায় পূর্বশত্রুতা ও চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের দুই কর্মী গুরুতর আহত হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ছাত্রদল কর্মী আকাশ বাদী হয়ে দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অপর পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে দর্শনা রেলবাজারের ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন দর্শনা পরানপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ছাত্রদল কর্মী আকাশ (২৬) এবং দর্শনা হঠাৎপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে যুবদল কর্মী সুলতান (৪০)।
ছাত্রদল কর্মী আকাশের অভিযোগ ও থানায় দেওয়া এজাহার সূত্রে জানা যায়, আকাশ দর্শনা পুরাতন বাজার সমবায় মার্কেটে ক্রোকারিজের ব্যবসা করেন। গত ২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দোকানের মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে বের হয়ে কেরুজ ফুলতলা বাজারে পৌঁছালে স্থানীয় সুলতান, মিতুল মিয়াসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। এসময় তাঁরা তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও গাছ কাটার দা দিয়ে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এ সময় তাঁর কাছে থাকা ব্যবসার প্রায় ৭৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আকাশ বাদী হয়ে দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, আকাশের ওপর হামলার ঘটনার পর প্রতিপক্ষের লোকজন একত্রিত হয়ে দর্শনা রেলবাজারের ফুলতলা এলাকায় যুবদল কর্মী সুলতানের ওপর পাল্টা হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁকেও কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুলতানের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন তাঁর স্ত্রী। তিনি জানান, তাঁর স্বামী বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজনের হাতে ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। প্রকাশ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি দুই পক্ষের মধ্যে ঘটেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
দর্শনা থানার ডিউটি অফিসার মুস্তাফিজ বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এজাহারভুক্ত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দর্শনা অফিস