রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

এইচএসসি ও সমমানে চুয়াডাঙ্গায় পাসের হার ৪৬.১৩ শতাংশ

যশোর বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা তৃতীয়
  • আপলোড তারিখঃ ০১-১১-২০২৬ ইং
এইচএসসি ও সমমানে চুয়াডাঙ্গায় পাসের হার ৪৬.১৩ শতাংশ

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হারে বড় ধরনের পতন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও পাসের হার কমেছে। তবে পাসের হার কমলেও যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১০ জেলার মধ্যে এবার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা। এ বছর জেলায় পাসের হার ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। গত বছর যশোর বোর্ডের জেলাগুলোর মধ্যে চুয়াডাঙ্গার অবস্থান ছিল চতুর্থ।


যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার ২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ হাজার ৮৩৩ জন পরীক্ষার্থী ১২টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ১৫২ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৩৩৪ জন ছাত্র এবং ১ হাজার ৮১৮ জন ছাত্রী। অকৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ৬৮১ জন। বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে পাসের হারে চুয়াডাঙ্গার অবস্থান তৃতীয়।


জেলাভিত্তিক ফলাফলে গত বছরের মতো এবারও প্রথম অবস্থানে রয়েছে যশোর। এ জেলায় পাসের হার ৫২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে খুলনা, পাসের হার ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা, ৪৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। চতুর্থ কুষ্টিয়া, ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ; পঞ্চম সাতক্ষীরা, ৪৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ; ষষ্ঠ ঝিনাইদহ, ৪১ দশমিক ৯৮ শতাংশ; সপ্তম মেহেরপুর, ৪০ দশমিক ৭৬ শতাংশ; অষ্টম বাগেরহাট, ৩৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং নবম মাগুরা, ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার নড়াইলে। এ জেলায় পাস করেছে ৩৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী।


চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে সর্বোচ্চ পাস ও জিপিএ-৫:
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এবার কলেজটি থেকে ৯১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭৬ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৩৫ জন। পাসের হার ৮৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ কলেজের পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। এবার কলেজটি থেকে মোট ১৫৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।


বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে ৩১৪ জন, মানবিক বিভাগে ৩৮৮ জন এবং বাণিজ্য বিভাগে ২০৯ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানের ৮৩ জন, মানবিকের ৭০ জন এবং বাণিজ্য বিভাগের ৬ জন রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুর রশিদ বলেন, কলেজে পাসের হার ৮৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা উচ্চশিক্ষায় নিজেদের কাক্সিক্ষত অবস্থানে পৌঁছাবে। তিনি আরও বলেন, শতভাগ পাস করলে তিনি বেশি খুশি হতেন। আগামীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ও পাসের হার আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে চুয়াডাঙ্গা সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এবার কলেজটির ৭৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৩৮ জন কৃতকার্য এবং ২৯৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, পাসের হার ৬১ শতাংশ।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোছা. নাজনীন বলেন, কলেজটি থেকে এবার ৬৫৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ১৮৬ জন পাস করেছে এবং ৪৬৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।


দামুড়হুদা:
দামুড়হুদা উপজেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দামুড়হুদা আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজে এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, কলেজটির পাসের হার মাত্র ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি। কলেজ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৪৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১১৫ জন। বাকি ৩৫৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে।


পাসের হার কমে যাওয়ায় এবং কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ না পাওয়ায় অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এ কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে নিয়মিত পাঠদানের ঘাটতি ও তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন অনেকে। স্থানীয় শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কলেজের অভ্যন্তরীণ শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


জীবননগর:
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জীবননগর উপজেলার চারটি কলেজে সম্মিলিত পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চার কলেজে ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭৭৭ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৯ জন। 


উপজেলার চারটি কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে উথলী কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ১৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪০ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১০০ জন। কলেজটির পাসের হার ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।


জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে জীবননগর সরকারি আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা উপজেলার সাধারণ কলেজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। কলেজটির ২৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৭৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৮২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৯৭ জন। পাসের হার ৬৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক বিভাগের ১৬ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের একজন রয়েছে।
জীবননগর ডিগ্রি কলেজে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। প্রতিষ্ঠানটির ৩২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১৫৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৬১ জন। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।


এদিকে, আন্দুলবাড়ীয়া কলেজে পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩৩ জন পাস করেছে এবং ১০ জন অকৃতকার্য হয়েছে। তবে এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করেনি।

অন্যদিকে, উপজেলার একমাত্র জীবননগর সরকারি কারিগরি স্কুল ও কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেনি।

সব মিলিয়ে জীবননগর উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজ ও একটি কারিগরি স্কুল ও কলেজে মোট ৪১০ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে চারটি সাধারণ কলেজে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন। অন্যদিকে, কারিগরি স্কুল ও কলেজে উত্তীর্ণ হয়েছে একজন। তবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল আলাদা হিসাবেই বিবেচনা করতে হবে।


আন্দুলবাড়ীয়া:
জীবননগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলার চারটি সাধারণ কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে। কলেজটির পাসের হার ৭৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মোট ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩ জন পাস করেছে। তবে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।


কলেজটির এ ফলাফলে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজ-সংশ্লিষ্টদের দাবি, পাসের হারের হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি চুয়াডাঙ্গা জেলার মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ সাফল্যের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপকোষাধ্যক্ষ, বিজিএমইএ ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের কৃতী সন্তান মাহমুদ হাসান খান (বাবু), চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও আন্দুলবাড়ীয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান (খোকন), জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মির্জা হাকিবুর রহমান (লিটন), কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সচিব ও আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্দার রহমান বিশ্বাস, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির হারুন অর রশিদ, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিম খান এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোল্লা হাসিবুল হোসেন (শান্ত) শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।


এছাড়া কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য শেখ আশাদুজ্জামান (আকুল), আব্দুল ওয়াহেদ মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মো. আব্বাস আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও শিক্ষানুরাগী সেলিম আকতার খান (মিন্টু), কলেজ পরিচালনা এডহক কমিটির বর্তমান সভাপতি সাইদুর রহমান (বাবু), সদস্য সচিব ও অধ্যক্ষ এস এম এনায়েতুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান খান (পলাশ) এবং অভিভাবক সদস্য মোল্লা মনিরুজ্জামান সুজনসহ সংশ্লিষ্ট প্রভাষক-প্রভাষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদেরও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

চুয়াডাঙ্গা ইকরা একাডেমির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ