প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর শনিবারের লংমার্চকে খুলনা বিভাগের সাধারণ মানুষ লাল কার্ড দেখাবে। এই লংমার্চকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে কোনো সাড়াশব্দ নেই এবং এতে কোনো সাধারণ মানুষও অংশ নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের ঐতিহাসিক পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদ ও সংলগ্ন এলাকা জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের লংমার্চের কঠোর সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ‘জামায়াত বলে তারা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। অথচ তাদের এই লংমার্চের কর্মসূচিতে গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা নেই, এমনকি লংমার্চ সেখানে থামবেও না। এ নিয়ে জনগণের মনে বড় প্রশ্ন উঠেছে- জামায়াত কি তবে এখনো আওয়ামী লীগকে ভয় পায়? যদি ভয় নাই পায়, তবে কেন তারা গোপালগঞ্জে পথসভা রাখল না?’
তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, জামায়াতের যদি নৈতিক সাহস থাকে, তবে তারা গোপালগঞ্জে গিয়ে পথসভা করে শক্তির পরীক্ষা দিক। এনসিপি (ঘঈচ) এর আগের লংমার্চের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ লংমার্চ করেছিল (যদিও সেখানে হামলার পর সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তাদের উদ্ধার করা হয়েছিল)। কিন্তু জামায়াত কেন গোপালগঞ্জে যাচ্ছে না? তারা কি তবে আওয়ামী লীগকে ভয় পায় নাকি নিজেদের দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে দাবি করাটা শুধুই ফাঁকা আওয়াজ?
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এই সময়ে খুলনা বিভাগকে একটি বিশেষ দলের ঘাঁটি হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এখন দিন বদলেছে; খুলনার মানুষ কোনো অপকৌশল মেনে নেবে না এবং ৩১ অক্টোবরের এই কর্মসূচিতে জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করবে।
তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-নির্বাচনে জামাতের শোচনীয় পরাজয় সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে রাশেদ খান বলেন, জামাতের জান্নাতে যাওয়া টিকেট এখন আর কাজ করছে না। অথচ এই উপ-নির্বাচনকে ঘিরে তারা কত প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল। তিনি বলেন এই আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। আওয়ামী লীগের ভোটারবিহীন নির্বাচনে এখন থেকে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়লাভ করেছিলেন।
রাশেদ খান বিমান বাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন এই মৃত্যুতে আওয়ামী মহলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এই কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরোয়ারের সঙ্গে ভারতের গোয়েন্দাদের বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন তার কাছে শক্ত দলিল রয়েছে। জামাতের ভারত কানেকশন যদি মিথ্যা প্রপান্ডা হয় তাহলে তারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করছে না কেন?
এসময় ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদ ও ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ অফিস