ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হঠাৎ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসময় জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টিপসই দিয়ে অবৈধভাবে নেওয়া ৪ হাজার ৩০০ টাকা ঘুষসহ রাকিব হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুদকের ঝিনাইদহ সমন্বিত কার্যালয়ের একটি দল এই অভিযান চালায়। আটককৃত রাকিব অফিসটিতে ‘ওমেদার’ (অফিস সহায়ক বা বেতনের বাইরে নিয়োজিত) হিসেবে কাজ করলেও তল্লাশির সময় তিনি নিজের চাকরির বা বৈধ নিয়োগের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
দুদকের ঝিনাইদহ সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খালিদ মাহমুদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে টিপসই নেওয়ার সময় ঘুষের ৪ হাজার ৩০০ টাকাসহ রাকিবকে হাতেনাতে ধরা হয়। তিনি বৈধ কোনো নিয়োগপত্র দেখাতে পারেননি। পাশাপাশি, অবৈধভাবে কার্যক্রমে যুক্ত থাকায় ওই কার্যালয়ের ওমেদার পদের রাকিব, শাকিল ও অঞ্জলি- এই তিনজনকে অবিলম্বে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাব-রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের অভিযানের পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কালীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদ। পরে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ঘুষের টাকাসহ আটক রাকিবকে ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, কালীগঞ্জ অফিসে এই অভিযান ও অনিয়ম ধরা পড়লেও ঝিনাইদহ জেলার অন্যান্য উপজেলা বিশেষ করে হরিণাকুণ্ডু, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দপ্তরে সরকারি নির্ধারিত ফি বা রেজিস্ট্রেশন খরচের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। দলিল লেখকরা শক্তিশালী সিন্ডিকেট বা সমিতি তৈরি করে এই নৈরাজ্য চালালেও দেখার বা তাদের ধরার যেন কেউ নেই। সাধারণ সেবাগ্রহীতারা জিম্মি হয়ে পড়লেও প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে প্রতিকার মিলছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রশাসনের এই নজরদারি জেলার অন্যান্য উপজেলা অফিসেও সম্প্রসারণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
সমীকরণ প্রতিবেদন