বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

রয়েল এক্সপ্রেসের বাসে হিজড়া দলের তাণ্ডব

চরম দায়িত্বহীনতায় যাত্রীদের সর্বস্ব লুট
  • আপলোড তারিখঃ ২৪-০৯-২০২৬ ইং
রয়েল এক্সপ্রেসের বাসে হিজড়া দলের তাণ্ডব

দূরপাল্লার নৈশকোচে যাত্রী নিরাপত্তার মারাত্মক ঘাটতি এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার ঘটনা যেন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। আলমডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ বাসে হিজড়া চক্রের জোরপূর্বক প্রবেশ এবং যাত্রীদের মারধর করে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বাসের চালক ও সুপারভাইজারের চরম দায়িত্বহীনতা এবং গাফিলতির কারণেই এমন অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা।


ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আলমডাঙ্গা থেকে বাসটি ছাড়ার সময় একজন সচেতন যাত্রী বাসের সুপারভাইজারকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভোরে ঢাকায় প্রবেশের পর বিশেষ করে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে হিজড়া চক্রের ব্যাপক উপদ্রব থাকে এবং তারা সুযোগ পেলেই বাসে ঢুকে লুটপাট চালায়। তবে যাত্রীর সেই আগাম সতর্কবার্তাকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয়নি পরিবহন কর্মীরা।


ভোরবেলা বাসটি যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবেই যেন রাস্তার পাশে ওঁৎ পেতে থাকা ১০-১২ জনের একটি হিজড়া দল বাসের দরজা লক্ষ্য করে এগোতে থাকে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও বাসের দরজা কেন খোলা হলো- এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। কোনো ধরনের নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই বাসের দরজা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাণ্ডব শুরু করে ওই চক্রটি।


এক ভুক্তভোগী আরাফাত ইসলাম বাধন বলেন, বাসের ভেতর ঢুকে জোরপূর্বক যাত্রীদের মানিব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নিতে শুরু করে হিজড়ারা। বাধা দিতে গেলে এবং কেউ প্রতিবাদ প্রকাশ করলে সাধারণ যাত্রীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও মারধর চালানো হয়। এমনকি তারা জোর করে যাত্রীদের পকেটে হাত দিয়ে তল্লাশি চালিয়ে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা লুট করে নেয়। চলন্ত কোচে এ ধরনের উন্মুক্ত ছিনতাই ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন বাসে থাকা নারী ও পুরুষ যাত্রীরা।


ভুক্তভোগীদের মতে, এই পুরো ঘটনার দায় রয়েল পরিবহন কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। বাসের নিরাপত্তার জন্য যেখানে প্রয়োজন ছিল বাড়তি সতর্কতা, সেখানে আগেই সতর্ক করা সত্ত্বেও কেন গাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে থামিয়ে দরজা খুলে দেওয়া হলো? প্রয়োজনে কিছুটা সামনে গিয়ে কিংবা নিরাপদ স্থানে যাত্রী নামানো যেত। এই সার্বিক নিরাপত্তাহীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডের জন্য রয়েল এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষকে সরাসরি দায়ী করছেন ক্ষুব্ধ যাত্রীরা।



কমেন্ট বক্স
notebook

দীর্ঘ ১৮ মাস পর মহেশপুরের কিশোরী নিঝুম হত্যার রোমহর্ষক রহস্য উদ্ঘাটন