আলমডাঙ্গার নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন দীর্ঘদিন ধরে জেলা শিক্ষা অফিসে পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে কলেজের অধ্যক্ষের নিয়মিত অনুপস্থিতি এবং কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর কাজ না করেও বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে শিক্ষক, কর্মচারী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, কলেজটির প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গত ৩ আগস্ট আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেয়।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা ও আইসিটি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদনটি চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকেও ফাইলটি জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফাইলটি পাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে জেলা শিক্ষা অফিসেই সেটি পড়ে রয়েছে। এ নিয়ে তদন্তের পরও কেন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন না। অনুপস্থিত থাকার সময় কাউকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়েও শিক্ষক-কর্মচারীদের অবহিত করা হয় না। আরও অভিযোগ রয়েছে, কলেজের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ না নিয়েও কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। কলেজে উপস্থিত না থেকে কিংবা পাঠদানে অংশ না নিয়েও এভাবে বেতন নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ক্ষোভ রয়েছে।
কলেজের অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অধ্যক্ষের নিয়মিত অনুপস্থিতি এবং কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর কাজ না করেও বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনেও এসব বিষয় উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তারা। তাদের অভিযোগ, তদন্তের পরও জেলা শিক্ষা অফিসে ফাইল পড়ে থাকায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আনিসুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্তের ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার মালিক আমি নই। এটা আমার এখতিয়ারের মধ্যেও নয়। আগামীকাল এটা আঞ্চলিক অফিসে ফরওয়ার্ড হবে। সেখানে কলেজ পরিদর্শক সিদ্ধান্ত নেবেন।’ তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা হওয়ার পরও কেন এতদিন ফাইলটি জেলা শিক্ষা অফিসে ছিল-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষানুরাগীদের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক দায়িত্বের বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তদন্তের বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হলে কলেজটির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা