শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে পিতা-পুত্রের ‘সিন্ডিকেট’

অবসর ঘনিয়ে এলেও থামেনি ঘুষ-বাণিজ্য
  • আপলোড তারিখঃ ১৮-০৯-২০২৬ ইং
ঝিনাইদহের নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে পিতা-পুত্রের ‘সিন্ডিকেট’

সরকারি চাকরির মেয়াদ আর মাত্র এক মাস। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও থামেনি দুর্নীতির দৌরাত্ম্য। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ওপেন-সিক্রেট ঘুষবাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির চিত্র সামনে এসেছে। অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো. দলিল উদ্দীন ও তাঁর ছেলের যোগসাজশে চলা এই সিন্ডিকেটের ঘুষ লেনদেনের গোপন ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে।


প্রাপ্ত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, কার্যালয়ের ভেতরের টেবিলে বসে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে প্রকাশ্যে ৩ হাজার টাকা গুনে পকেটে ভরছেন তহসিলদার দলিল উদ্দীন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি (খারিজ), খতিয়ান সংশোধন কিংবা ভূমিকর পরিশোধ- যেকোনো সেবার জন্য এই কার্যালয়ে ২০০ থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। চুক্তি অনুযায়ী নগদ টাকা না দিলে ফাইল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রেখে হয়রানি করাই এখানকার স্বাভাবিক নিয়ম।


তথ্য নিয়ে জানা গেছে, কোনো সরকারি নিয়োগ বা অনুমতি ছাড়াই তহসিলদারের ছেলেকে অফিসের কম্পিউটারে বসানো হয়েছে। স্পর্শকাতর সরকারি অনলাইন ডাটাবেজ নিয়ন্ত্রণ, নামজারির প্রসেসিং ও খতিয়ান সংশোধনের মতো মূল দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন তাঁর ছেলেই। ছেলে যখন কম্পিউটারে সরকারি কাজ তদারকি করছেন, ঠিক তখনই টেবিলে বসে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সরাসরি নগদে ঘুষের টাকা আদায় করছেন বাবা।
ছদ্মবেশে ওই কার্যালয়ে যান সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল। অনলাইনে নামজারির সরকারি নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও সরাসরি ৫ হাজার টাকা দাবি করেন তহসিলদার। উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি অনায়াসেই স্বীকার করেন, ‘তাহলে ৫ হাজার টাকাই দিয়েন।’


পরবর্তীতে অনুসন্ধান চালানোর বিষয়টি বুঝতে পেরে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের পকেটে টাকা গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা চালান এবং অনুনয়-বিনয় করে বলেন, ‘আমার আর মাত্র এক মাস চাকরি আছে, আপনারা নিউজ না করে কিছু খরচাপাতি নেন।’ এসময় তিনি ভবিষ্যতে আর ঘুষ গ্রহণ করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীপা রাণী সরকার বলেন, ‘কোনো বহিরাগতকে দিয়ে সরকারি দাপ্তরিক কাজ করানো এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা মারাত্মক দাপ্তরিক অসদাচরণ ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল। সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে অভিযুক্ত তহসিলদারের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী বরখাস্তসহ কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

মেমনগর বিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ