আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এক্সকাভেটর দিয়ে জামাইয়ের বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দিনদুপুরে এক্সকাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী রফিউদ্দিন প্রথমে একই গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ছনিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর প্রবাসী রফিউদ্দিন একই গ্রামের মুকুল হোসেনের মেয়ে রিমা খাতুনকে বিয়ে করেন। অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের প্রায় এক বছর পর রফিউদ্দিন আবার প্রথম স্ত্রী ছনিয়া খাতুনকে ঘরে তোলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে রবিবার সকালে একটি এক্সকাভেটর এনে রফিউদ্দিনের বাড়ী বসতঘর ও বাড়ির বিভিন্ন অংশ ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী রফিউদ্দিন বলেন, আমি বিদেশে থাকি। পারিবারিক বিরোধের জেরে আমার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এতে আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দিনের বেলায় এক্সকাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার সময় উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা বোরহান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দুই পরিবারের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। বিষয়টি আইনিভাবে সমাধান হওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুকুল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানি ইসরাইল বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
আলমডাঙ্গা অফিস