চুয়াডাঙ্গার দর্শনার আলোচিত বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বাদী শালপোনা পারভীন জানান, ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তার ভাই বিল্লাল হোসেনকে তৎকালীন দর্শনা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি। পরে পরিবারের সদস্যরা দর্শনা পুলিশ ফাঁড়ি ও দামুড়হুদা থানায় খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে দক্ষিণ চাঁদপুর-উজলপুর সড়কের পাশের একটি চারার মাঠ থেকে বিল্লালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, বিল্লালকে কুপিয়ে, দুই পায়ের রগ কেটে এবং গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বিল্লাল কোনো 'ক্রসফায়ারের' আসামি ছিলেন না। যদি তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ থেকেও থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত ছিল। এ ঘটনায় শালপোনা পারভীন ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর, তৎকালীন দর্শনা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান, তৎকালীন দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, তৎকালীন দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আহসান হাবিব, এক পুলিশ কনস্টেবল, এক এএসআই, তৎকালীন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারসহ মোট নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়।
মামলাটির তদন্ত শেষে সিআইডি গত ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে ওই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে বাদীপক্ষ ২০২৬ সালের ১৯ মে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
বাদী শালপোনা পারভীন বলেন, ‘আমরা চাই পিবিআই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করুক এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।’ উল্লেখ্য, আদালতের এই আদেশ পুনঃতদন্তের নির্দেশমাত্র। মামলার অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালতে চূড়ান্ত বিচার বা দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হয়নি।
দর্শনা অফিস