চুয়াডাঙ্গায় নিবন্ধনবিহীন থ্রি-হুইলার, অটোটেম্পু, ইজিবাইক, লাটাহাম্বা, পাখিভ্যান ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হাসান ইমাম বকুল। তিনি বলেন, গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভায় নিবন্ধনবিহীন থ্রি-হুইলার, অটোটেম্পু, ইজিবাইক, লাটাহাম্বা, পাখিভ্যান ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের আঞ্চলিক ও মহাসড়কে চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির কিছু সিদ্ধান্ত গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা ও পৌরসভাভিত্তিক পৃথক রং নির্ধারণ করে ইজিবাইক পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার জন্য কমলা, সদর উপজেলার জন্য নীল, আলমডাঙ্গা উপজেলার জন্য সবুজ, দামুড়হুদা উপজেলার জন্য খয়েরি এবং জীবননগর উপজেলার জন্য হলুদ রং নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভাকে নির্ধারিত রং বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পৌরসভা কর্তৃক ইজিবাইক পরিচালনার অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে দৌলতদিয়ার এলাকাকে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার আওতাভুক্ত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আবেদনকারীর পৌর এলাকার নাগরিকত্ব ও নির্ধারিত রং নিশ্চিত করে পৌর নীতিমালা অনুযায়ী ফি গ্রহণের মাধ্যমে অনুমতি প্রদান করতে হবে। এছাড়া উপজেলা এলাকা থেকে বিশেষ প্রয়োজনে রিজার্ভ যাত্রী নিয়ে জেলা শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া গেলেও ফেরার পথে স্থানীয় যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। নিজ নিজ এলাকায় খালি গাড়ি ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদিত নয়, এমন নিবন্ধনবিহীন ও নির্ধারিত রংবিহীন থ্রি-হুইলার, অটোটেম্পু, ইজিবাইক, লাটাহাম্বা, পাখিভ্যান ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের অবৈধ চলাচল আইনানুগভাবে নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ঢাকাগামী ও ঢাকা থেকে আগত পরিবহনের যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বড়বাজার কাউন্টার ও কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানো নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। এ সময় চুয়াডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ব্যবহার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, শ্রমিক ইউনিয়নের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) বহন বাধ্যতামূলক করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পৌরসভা, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিয়মিত তদারকি পরিচালনা এবং যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ বা হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নিবন্ধন, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রুট পারমিট ছাড়া কোনো অটোটেম্পু চলাচল করতে না দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাটকালুগঞ্জের ইমরান ফিলিং স্টেশন থেকে নিলার মোড় পর্যন্ত বাইপাস সড়কের সংযোগ স্থাপন এবং সড়কের প্রস্থ ন্যূনতম ১৮ ফুটে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সড়কের উভয় পাশে তিন মিটারের মধ্যে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মহিউদ্দিন বলেন, চুয়াডাঙ্গার ইজিবাইক মালিকদের নিজ উদ্যোগে পৌরসভায় এসে যানবাহনের নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে যানজট কমবে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তিনি বলেন, নিবন্ধনবিহীন যানবাহন নিবন্ধনের আওতায় এলে সরকার রাজস্ব পাবে, পাশাপাশি জেলায় যানবাহনের ভারসাম্যও বজায় থাকবে। আমাদের মূল দাবি, জেলার ৩২টি পাকা সড়ক থেকে থ্রি-হুইলার যাত্রীদের নির্ধারিত পয়েন্ট পর্যন্ত নিয়ে আসবে, এরপর সেখান থেকে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন বাসের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক সোহেল রঞ্জু, মিনিবাস মালিক গ্রুপের সিনিয়র সহসভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আমির খসরু, সদস্য লাল মিয়া, মিন্টুসহ মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক