২০২৬-২৭ মৌসুমে তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৩০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে তুলা চাষের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তুলা উন্নয়ন বোর্ড চুয়াডাঙ্গা জোনের উদ্যোগে সদর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়মে এ প্রণোদনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড, যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোজাদ্দীদ আল শামীম।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে প্রতি বিঘা জমির জন্য ৬০০ গ্রাম হাইব্রিড তুলা বীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া, ৫০ কেজি টিএসপি, ৫০ কেজি এমওপি, ২ কেজি বোরন সার, ২০০ মিলিলিটার ডাইফেনথিউরণ, ১০০ মিলিলিটার স্পিনোসেড, ১৫০ মিলিলিটার ছত্রাকনাশক এবং ৩০০ মিলিলিটার প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর (ম্যাপাকুয়েট ক্লোরাইড) প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও তিথি মিত্র বলেন, সরকার কৃষকদের তুলা উৎপাদনে উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চুয়াডাঙ্গা সদরে বেশি সংখ্যক কৃষককে এ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশীয়ভাবে উন্নতমানের তুলা উৎপাদন বাড়াতে পারলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানিরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রশাসন সবসময় সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ^াস দেন।
তিনি আরও বলেন, শীতকালীন মৌসুমে তুলার পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি চাষও করা সম্ভব। কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসরণ করে তুলা চাষ করলে অধিক লাভবান হতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, কৃষকদের সরবরাহ করা প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর (পিজিআর) নির্ধারিত সময়ে ও সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে না। তিনি মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ পরিচালনার আহ্বান জানান।
এসময় তিনি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃষকদের উৎপাদিত তুলা ক্রয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কৃষকদের তুলা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভেজাল না করারও পরামর্শ দেন।
জেলার কটন ইউনিট অফিসার সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম ইজাজুল ইসলাম, কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ তাসদিকুর রহমান সনেটসহ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও তুলা চাষীগণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক