বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

কার্পাসডাঙ্গায় মোবাইল কোর্টের আদেশ অমান্য করে ক্লিনিক পরিচালনা

প্রশাসনের অভিযানের খবরে পালালেন মালিক
  • আপলোড তারিখঃ ০৭-০৭-২০২৬ ইং
কার্পাসডাঙ্গায় মোবাইল কোর্টের আদেশ অমান্য করে ক্লিনিক পরিচালনা

দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে অবস্থিত ‘নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর মালিক আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সনোলজিস্ট না হয়েও তিনি নিজেই আল্ট্রাসনোগ্রাফি করছিলেন বলে জানা গেছে। এই খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ক্লিনিকটিতে যৌথ অভিযান চালায় দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে অভিযানের বিষয়ে টের পেয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েন ক্লিনিক মালিক আখতারুজ্জামান।


স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন টেবিলে রোগীকে মাঝপথে রেখে ডাক্তার সটকে পড়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ওই সময় দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং ক্লিনিকের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে মালিক আখতারুজ্জামান গোপনে ও প্রকাশ্যেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।


বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নজরে আসলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতেই নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল সোমবার দুপুরে পুনরায় সেখানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু যৌথ টিম পৌঁছানোর আগেই টের পেয়ে ক্লিনিকে তালা মেরে দ্রুত পালিয়ে যান আখতারুজ্জামান।


এদিকে এই ভুয়া ক্লিনিকটি যেন আর কোনোভাবেই অনুমোদন না পায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে একে ‘কসাইখানায়’ রূপান্তর করতে না পারে, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের জোর দাবি তুলেছেন সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।


অভিযুক্ত আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কেবল চিকিৎসার নামে প্রতারণাই নয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এক অসহায় রাজমিস্ত্রির সংসার ভাঙারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর দাবি, আখতারুজ্জামান তার ক্লিনিকে কর্মরত এক নারী কর্মীর (যিনি এক রাজমিস্ত্রির স্ত্রী ছিলেন) সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।


ওই নারীর স্বামী বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও আখতারুজ্জামান তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন এবং পরবর্তীতে ওই নারীকে বিয়ে করেন। তবে কিছুদিন পর তাকে আবার ডিভোর্সও দেন। স্থানীয়দের দাবি, আখতারুজ্জামানকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক, যাতে তার এমন আরও কোনো অনৈতিক কীর্তি থাকলে তা প্রকাশ্যে আসে।


এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্ত আখতারুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযানের বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম জানান, ‘আমরা ক্লিনিকটিতে অভিযানে গেলে মালিক পক্ষ আগেই বিষয়টি টের পেয়ে সটকে পড়ে। সেখানে তালা ঝুলানো পাওয়া গেছে।’


দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, ‘পুরো বিষয়টি চুয়াডাঙ্গা জেলা সিভিল সার্জন মহোদয়কে লিখিত চিঠির মাধ্যমে জানানো হচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন মহোদয় পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’



কমেন্ট বক্স
notebook

মুজিবনগরে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত