দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সীমানার মধ্যে থাকা ১১টি মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ৪৫ হাজার টাকায় মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের জমিতে থাকা গাছ কেটে নেওয়া হলেও প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় মীমাংসার অর্থের পরিমাণ খুবই কম হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার ছুটির সময়ে জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের পাশ থেকে ১১টি বড় মেহগনি গাছ কেটে নেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুনছুর আলী বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন যে গাছগুলো কাটা হয়েছে, সেই গাছগুলোর দাম প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা।
অভিযোগের পর গত সোমবার সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিমাপে গাছগুলো বিদ্যালয়ের জমির সীমানার মধ্যেই পাওয়া গেছে। তবে গত সোমবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও গাছ কাটা বাবদ ৭০ হাজার টাকাসহ ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে মীমাংসা করার কথা বললে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন মেনে নেয়নি। পরবর্তীতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের না জানিয়ে কতিপয় স্থানীয় ব্যক্তি অভিযুক্ত আমজাদ হোসেনের সাথে যোগসাজস করে মাত্র ৪৫ হাজার টাকায় মীমাংসা করে দেয় জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একটি বড় মেহগনি গাছের দাম যেখানে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে, সেখানে ১১টি গাছের জন্য ৪৫ হাজার টাকার মীমাংসা কতটা যুক্তিসঙ্গত, এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই প্রায় ৭৫ হাজার টাকার গাছ বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তাহলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কম টাকা দেওয়া হলো কেন? এ নিয়েও চলছে আলোচনা।
সরেজমিনে জানা যায়, জয়রামপুর গাতিরপাড়া এলাকার রমজান আলীর ছেলে আমজাদ আলীর জমি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের পাশে রয়েছে। আমজাদ আলীর দাবি, ‘আমার জমিতে আমি গাছ লাগিয়েছি, আমার গাছ আমি কেটেছি। এগুলো স্কুলের গাছ নয়।’
জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য হুমায়ুন কবির ডাবলু বলেন, ‘বারবার জমি মাপা হয়েছে, গাছগুলো বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে ছিল। আমরা জানি এগুলো বিদ্যালয়ের গাছ।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুনছুর আলী বলেন, ‘আমি সাত মাস হলো এখানে যোগদান করেছি। যোগদানের পর থেকেই শুনে আসছি গাছগুলো বিদ্যালয়ের। পুরোনো শিক্ষক ও রেজুলেশন খাতার তথ্য অনুযায়ীও গাছগুলো বিদ্যালয়ের পক্ষে রয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শাহীন আলম বলেন, ‘জানতে পেরেছি জয়রামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১১টি গাছে কে বা কারা কেটে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আমি ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছি। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রতিবেদক দামুড়হুদা