আলমডাঙ্গা পৌরসভা সংলগ্ন বেলগাছি ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামে লুৎফন নেছা মা-শিশু ও সাধারণ হাসপাতালের জন্য দানকৃত জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হাসপাতালের জমি রক্ষায় রুখে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন ফরিদপুর মৌজার খতিয়ান নং-২০৯৯ এবং দাগ নং-৩৫২০, ৩৫২১, ৩৫২২ ও ৩৫২৩-এর আওতাভুক্ত মোট ৯৯ দশমিক ৮৪ শতক জমি “লুৎফন নেছা মা-শিশু ও সাধারণ হাসপাতাল”-এর জন্য নির্ধারিত। বর্তমানে সেখানে ঈদগাহ ময়দান থাকলেও জমিটি মূলত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্দেশ্যে দান করা হয়েছিল।
জানা গেছে, এলাকার দানবীর ও সমাজসেবক জোহা সাহেব মানবসেবার উদ্দেশ্যে হাসপাতালের নামে দলিল সম্পন্ন করে জমিটি দান করেন। তার স্বপ্ন ছিল, এ অঞ্চলের মা ও শিশুদের জন্য একটি আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলা, যেখানে দরিদ্র মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পাবে। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, জোহা সাহেবের কিছু শরিক ব্যক্তি জাল কাগজপত্র তৈরি করে হাসপাতালের জমি বিক্রির ষড়যন্ত্র করছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
সাবেক প্রধান শিক্ষক মীর মনিরুজ্জামান বলেন, জোহা সাহেব শুধু জমি দান করেননি, মানুষের জন্য একটি ভবিষ্যৎ রেখে গেছেন। তিনি চেয়েছিলেন, গরিব মানুষ যেন চিকিৎসার অভাবে মারা না যায়। স্থানীয় প্রবীণ উলু মিয়া এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এই জমি জনস্বার্থের সম্পদ। এটি কোনোভাবেই ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না।”
স্থানীয় যুবক মোস্তাক বলেন, “এই জায়গা নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তারা শুধু জমি দখল করতে চায় না—মানুষের আশা-ভরসাও কেড়ে নিতে চায়।” এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসন দ্রুত জমির প্রকৃত কাগজপত্র যাচাই করে হাসপাতালের জন্য দানকৃত সম্পত্তি সুরক্ষিত করুক এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
আলমডাঙ্গা অফিস