আলমডাঙ্গার বেলগাছি গ্রামে নববধূ রুমার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামী খলিফা শরিফুল ইসলাম খানের (৫০) বিরুদ্ধে স্ত্রীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রুমা (৩৯) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুলিপুল গ্রামের বাসিন্দা। মাত্র দুই মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিল শরিফুলের চতুর্থ বিয়ে। জানা গেছে, পূর্বেও তার আরও একটি স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন গত শুক্রবার সকালেও রুমাকে স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না করতে দেখা যায়। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করেই তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হারদী হাসপাতালে নেওয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল, অথচ পরে 'স্বাভাবিক মৃত্যু' দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের এক পরিচিত চিকিৎসকের মাধ্যমে মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা হয়েছে। এমনকি মৃত্যুর পরও ইসিজি রিপোর্ট করানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত রহস্যজনক ও সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের বক্তব্যেও মিলেছে একের পর এক অসংগতি। তিনি দাবি করেন, 'অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টে' তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু স্ত্রীর পরিবারের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলমডাঙ্গার আব্দুস সালাম কাজীর মাধ্যমে বিয়ে হয়েছে। শ্বশুরের নাম জানি না, শ্বশুরবাড়ির নম্বরও মনে নেই। এটা আমার চতুর্থ বিয়ে ছিল। পরিবারের অমতে বিয়ে করেছি, তাই যোগাযোগ করিনি। ফোনে নম্বর ছিল, কিন্তু ফোন দোকানে রেখে এসেছি। তার মাথায় সমস্যা ছিল।
স্থানীয়দের প্রশ্নÑমাত্র দুই মাস আগে বিয়ে করা একজন ব্যক্তি কীভাবে নিজের শ্বশুরের নাম, ঠিকানা কিংবা যোগাযোগ নম্বর জানেন না? এমন বক্তব্য জনমনে আরও গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা অসঙ্গত তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাণী ইসরাইল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ হয়নি। মেয়েপক্ষের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা