চুয়াডাঙ্গা থেকে বাবার বাড়ি জামালপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনে ওঠার পর দুই সন্তানসহ এক গৃহবধূ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ গৃহবধূর স্বামী হারেজ আলী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ গৃহবধূর স্বামী হারেজ আলী জানান, গত ১৫ মে শুক্রবার তার স্ত্রী হাফসা জাহান মুক্তা দুই সন্তান ফাতেমা (৫) ও মুস্তাকিমকে (২ বছর ৬ মাস) নিয়ে বাবার বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে রওনা হন। ট্রেনের ঝ বগির ৮৫ ও ৮৬ নম্বর সিটে তারা যাত্রা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই তাদের ট্রেনে তুলে দিই। ট্রেন ছাড়ার প্রায় ১০ মিনিট পর ফোন দিয়ে জানতে চাইলে আমার স্ত্রী জানায় তারা সিট পেয়েছে এবং ভালো আছে। পরে দুপুর একটার দিকে ফোন দিলে মোবাইল বন্ধ পাই। এরপর থেকে আর ফোন চালু পাওয়া যায়নি।’ হারেজ আলী আরও জানান, তার স্ত্রী যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে নেমে সেখান থেকে জামালপুর সরিষাবাড়ী যাওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়েও তারা সেখানে পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে শ্বশুরবাড়ি কথা বললে, তারাও কিছু জানে না বলে জানালে আমি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। যার ট্র্যাকিং নম্বর ঘঋজ০১৮।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বাড়িতে এসে দেখি ওয়ারড্রোবের ভেতরে থাকা স্বর্ণালংকারও নেই। আমার স্ত্রী মাজারপন্থী ছিলেন। কারো প্রলোভনে পড়ে কোথাও চলে গেছে কি না, বুঝতে পারছি না। আবার কোনো সুফিবাদী বা মাজারপন্থী লোকজনের সঙ্গেও চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’ তিনি আরও জানান, যাওয়ার আগে তার স্ত্রী পুরোনো সিম রেখে নতুন একটি সিম নিয়ে যান। পরে থানার মাধ্যমে সিম ট্র্যাকিং করে জানা যায়, স্বামী ছাড়া ওই নম্বরে অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।
জানা গেছে, হারেজ আলী ও হাফসা জাহান মুক্তা উভয়েই জামালপুর জেলার বাসিন্দা। তবে চাকরির সুবাদে হারেজ আলী পরিবার নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দক্ষিণ হাসপাতাল পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। এসময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে হারেজ আলী বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের ফিরে পেতে চাই। কেউ তাদের সন্ধান পেলে ০১৭১০-৬৬৬৭৪৮ অথবা ০১৭২৯-৫২৫৭৪৪ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি জিডি হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
নিজস্ব প্রতিবেদক