দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার হাসপাতালের হলরুমে আয়োজিত সভায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জনবল সংকট, পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীরা যেন সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো রোগী যেন চিকিৎসা ছাড়া ফিরে না যায়। সপ্তাহে অন্তত একদিন অপারেশনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।’ সভায় কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে আগামী জুন মাস থেকে হাসপাতালের টিকিট মূল্য ১০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহাম্মেদ, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উবায়দুর রহমান সাহেল, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু এবং দামুড়হুদা মডেল থানার এসআই প্রবীর কুমার। এছাড়া হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, ২০২৩ সাল থেকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে। দ্রুত এটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বায়োমেট্রিক হাজিরা কার্যক্রম আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও সভায় উঠে আসে।
চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সাপে কামড়ানো ও কুকুরে কামড়ানোর ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা, জরুরি বিভাগে ইসিজি মেশিন ও এলইডি ভিউ বক্স স্থাপন এবং প্যাথলজি বিভাগে একটি সেল কাউন্টার মেশিন স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া হাসপাতালের ডাবল ফেজ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন, জেনারেটর ও অচল সোলার প্যানেল চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। হাসপাতাল মসজিদে ওজুখানা নির্মাণে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন বলে জানানো হয়।
সভায় ইউজার ফি নিয়েও আলোচনা হয়। জানানো হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ৯ লাখ ১০ হাজার ৬৭০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হলেও বর্তমানে কোষাগারে কোনো অর্থ নেই। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ডাক্তার ও নার্সদের কোয়ার্টার সংস্কার এবং ২০১৮ সালের পর থেকে বন্ধ থাকা পথ্য, মনোহারী ও ধোলাই ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। আগামী জুন মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।
প্রতিবেদক দামুড়হুদা