শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মহেশপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে উদ্ধার হওয়া লাশ আফগান নাগরিকের

মানবপাচার ও আন্তর্জাতিক চক্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০৪-২০২৬ ইং
মহেশপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে উদ্ধার হওয়া লাশ আফগান নাগরিকের

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার ও একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- নিভৃত এই সীমান্ত পথটি কি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী বা মাফিয়া চক্রের নিরাপদ ‘গেটওয়ে’তে পরিণত হচ্ছে? সম্প্রতি ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার হওয়া একটি লাশের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি স্থানীয় কেউ নন; তিনি আফগানিস্তানের নাগরিক এবং ইতালিতে বসবাস করতেন।


গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকার ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ও পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়। আঙুলের ছাপ জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটাবেজে না মেলায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল দাফন করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মরদেহের ছবি দেখে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মোহাম্মদ ইরা লাশটি তার ভাই হাশমত মোহাম্মাদির বলে শনাক্ত করেন। তিনি জানান, হাশমত আফগানিস্তানের নাগরিক হলেও ইতালির পাসপোর্টধারী ছিলেন এবং ব্যবসার কাজে ভারতে যাতায়াত করতেন।


পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারতে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে একটি মামলায় জড়িয়ে পড়েন হাশমত। প্রায় পাঁচ বছর পর আদালত তাকে খালাস দিলেও দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় তিনি ইতালি ফিরে যাওয়ার বিকল্প পথ খুঁজছিলেন। এসময় তার সঙ্গে যশোরের কথিত মানবপাচারকারী মাসুম ও ভারতের পাচারকারী পুরাব হেলার পরিচয় হয়। তাদের পরামর্শে হাশমত অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। গত ১১ এপ্রিল মহেশপুর সীমান্তে এসে তিনি তার ভাইকে ফোন করে জানান, সামনে ইছামতি নদী পার হলেই বাংলাদেশে প্রবেশ সম্ভব হবে।


এর কিছুক্ষণ পরই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে কথিত পাচারকারী মাসুম হাশমতের ভাইকে দুটি ছবি পাঠিয়ে তার মৃত্যুর খবর জানায় এবং বাংলাদেশে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলে। এরপর থেকে মাসুমের ফোন বন্ধ রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, হাশমতের কাছে থাকা অর্থ হাতিয়ে নিতে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতান জানান, ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে লাশের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের আরেক ভাই যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনের সময়ই এটি বিদেশি নাগরিকের বলে ধারণা করা হয়েছিল। সন্দেহভাজনদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে, মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনাটি সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর নজরদারি না বাড়ালে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।



কমেন্ট বক্স