দর্শনা রেলবাজারের ফুলতলা মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। বছরের অধিকাংশ সময়ই এখানে কালো, পচা ও তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকে। কখনও কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডর বর্জ্য পানি, আবার কখনও মাছ বাজারের পচনশীল বর্জ্য মিশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফুলতলা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর ও ড্রেনের মুখে জমে থাকা কালচে পানিতে পলিথিন ও বিভিন্ন আবর্জনা ভাসছে। পানির রং প্রায় কয়লার মতো কালো এবং সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সামান্য অসতর্কতায় পথচারীদের পা পিছলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলের সময় পানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে লাগছে।
বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য এ পথ দিয়ে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় এক রোজাদার ক্রেতা বলেন, ‘এই পানি যদি পোশাকে লাগে তাহলে নামাজ আদায় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।’ বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে পৌরসভা, পাশে দর্শনা থানা, আরেকদিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড—তবুও এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ড্রেনের ভেতরে ময়লা, পলি ও পচনশীল বর্জ্য জমে পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একই ড্রেন নেটওয়ার্কে কেরু কোম্পানির বর্জ্য, মাছ বাজার, মাংস বাজার ও কাঁচাবাজারের বর্জ্য যুক্ত হওয়ায় দ্রুত পলি জমে উপচে পড়ছে দুর্গন্ধযুক্ত পানি।
দর্শনা কেরুজ ফুলতলা মোড় কেরু কোম্পানি এলাকা ও রেলবাজারে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দর্শনা রেলবাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রতন বলেন, বিষয়টি বহুবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। পৌরসভার ক্লিনার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুর রাজ্জাককে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এবার পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন- এটি কি দুর্বল অবকাঠামোর ফল, নাকি নিয়মিত তদারকি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব? সচেতন মহলের মতে, পৌরসভা ও কেরু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক (দর্শনা অঞ্চল)