রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দামুড়হুদার আটকবর ক্লিনিকে ‘ভুল চিকিৎসায়’ স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০২-২০২৫ ইং
দামুড়হুদার আটকবর ক্লিনিকে ‘ভুল চিকিৎসায়’ স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ

দামুড়হুদা উপজেলার আটকবর ক্লিনিকে অ্যাপেন্ডিক অপারেশনের পর পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার বেলা দুইটার দিকে ভর্তি হলে রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া হোসনিয়ারা খাতুন (১১) আটকবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম ছাত্রী ও বোয়ালমারী ফকির পাড়ার হোসেন আলীর মেয়ে।

ওই ছাত্রীর মৃত্যুর পর গতকাল সোমবার বেলা তিনটার দিকে ক্লিনিকের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপা আটকবর ক্লিনিক সিলগালা করার নির্দেশ দেন। সেই সাথে ডা. রিচার্ড স্মরণের সার্টিফিকেট নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেলে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

``

জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার বোয়ালমারি ফকির পাড়ার হোসেন আলীর মেয়ে হোসনিয়ারা খাতুনের তলপেটে ব্যথা উঠলে আটকবর ক্লিনিকে নিয়ে যায়। আটকবর ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার পরিবারের লোকজনকে জানান, তার এপেন্ডিক হয়েছে। খুব দ্রুত অপারেশন করতে হবে। মেয়ের সমস্যার কথা শুনে হাসেন আলী তাকে গত শনিবার বেলা দুইটার দিকে আটকবর ক্লিনিকে ভর্তি করেন। আটকবর ক্লিনিকে কোনো এনেস্থেসিয়া ডাক্তার না থাকায় ডা. রিচার্ড স্মরণ ক্লিনিক মালিকের সহযোগিতায় তাকে অজ্ঞান করে রাত ১১টার দিকে অপারেশন করেন। পরে হোসনিয়ারার আর জ্ঞান ফেরেনি। পরে রোগীর লোকজনের সন্দেহ হলে বিভিন্ন ডাক্তার দিয়ে চেকআপ করে জানতে পারে তার মৃত্য হয়েছে। পরে এলাকার লোকজনের তোপের মুখে পড়ে ক্লিনিক মালিক সটকে পড়েন। গত রোববার সকাল ১০টার দিকে তার জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
আটকবর ক্লিনিকে ‘ভুল চিকিৎসার’ কারণে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে যান দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপা। ক্লিনিকের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ক্লিনিক সিলগালা করে দেন। সেই সাথে ডাক্তার রিচার্ড স্মরণের কাগজপত্রসহ অফিসে আসার নির্দেশ দেন। তাকে সহযোগিতা করেন নাটুদাহ ক্যাম্পের পুলিশ।

``

এদিকে, এলাকাবাসী নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এই আটকবর ক্লিনিকের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং অজ্ঞানের কোনো ডাক্তার নেই। তারপরও নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে এই ক্লিনিক। এ বিষয়ে হোসনেয়ারার পিতা হোসেন আলী বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ, আমার দুইটা মেয়ে। এই মেয়েটা ছোট। আল্লাহ যেটা ভালো মনে করেছে সেটাই হয়েছে। কারো প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই রকম ঘটনা ঘটার পরে আমি পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। মারা যাওয়া স্কুলছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, ‘কোনো এনেস্থিসিয়া ডাক্তার না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটকবর ক্লিনিকের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকাই ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে। ডা. রিচার্ডের সার্টিফিকেট দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

দুর্ঘটনায় নিহত রুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদের লাশ চুয়াডাঙ্গায়