লাইসেন্স বাদে কেউ ওষুধ বেচা-কেনা করতে পারবে না
- আপলোড তারিখঃ
১১-০১-২০২১
ইং
চুয়াডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরা পারভীন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বছরের প্রথম তথা জানুয়ারি মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাচ্ছি। কেউ যদি নারীর প্রতি সহিংসতা করে, তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।’
সভার একপর্যায়ে ইজিবাইকের বিষয় উঠলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন কঠোর হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন, ইজিবাইক অবৈধ যান। মহাসড়কে উঠতে দেওয়া হবে না। নির্ধারিত রং অনুযায়ী স্ব স্ব উপজেলার মধ্যে চলাচল করবে। গত সভায় এ মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ আগামীকাল (আজ) থেকে কঠোরভাবে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধুমাত্র রোগী বহনের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হবে, তাছাড়া এক উপজেলার গাড়ি অন্য উপজেলায় চললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাল্যবিবাহের প্রসঙ্গে কথা উঠলে তিনি বলেন, করোনার মধ্যে বেশ কয়েকটা বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। কাজীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। কোনো কাজী নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে বিয়ে পড়াতে পারবে না। যদি এমন খবর পাওয়া যায়, তহালে কাজীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের উদ্দেশ্যে বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। জিরোটলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। মাদক বন্ধে অভিযানের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিয়ত উল্লাহ ঈুহঃধ নামের একটি নিষিদ্ধ ওষুধ মাদকদ্রব্য হিসেবে ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন ওষুধ প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পরিমাণ বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, লাইসেন্স বাদে কেউ ওষুধ বেচা-কেনা করতে পারবে না। প্রত্যেকটি ওষুধের দোকানেই লাইসেন্স থাকতে হবে। কেউ কেউ মুদি দোকান বা ভ্যারাইটিজের সাথে ওষুধও বিক্রি করে থাকে, সেটা কিন্তু চলবে না।
রাস্তার ওপর ইটভাটার মাটি জমে জমে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক ভাটা মালিককে নির্দেশনা দিতে হবে, রাস্তায় যেন মাটি না থাকে। গাড়ি মাটি বহনের সময়ও খেয়াল রাখতে হবে। আবার মাটি যদি নিচে পড়ে, তাহলে তা ভাটাগুলোকেই সরাতে হবে। কোনোভাবেই যেন দুর্ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে।
সভায় চোরাচালানের বিষয় উঠলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন বলেন, সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে। কোনো প্রকার চোরাচালান মেনে নেওয়া হবে না।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্তিতি ভালো আছে। পুলিশ বিভাগ সর্বদা তৎপর। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় এই জেলার সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রাখতে আমরা বদ্ধ পরিকর।’
সভার শুরুতে গত সভার কার্যবিরণী পাঠ করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাজিয়া আফরিন। সভায় আরও বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলগমীর হান্নান, জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. বেলাল হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভপতি অ্যাড. আলমগীর হোসেন, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা চুয়াডাঙ্গার উপ-পরিচালক জামিল সিদ্দিকসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ।
কমেন্ট বক্স