বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

অল্প সময়ে স্বল্প খরচে কৃষি ও পচনশীল দ্রব্য পরিবহন করা যাবে সারা দেশে

  • আপলোড তারিখঃ ১০-০১-২০২১ ইং
অল্প সময়ে স্বল্প খরচে কৃষি ও পচনশীল দ্রব্য পরিবহন করা যাবে সারা দেশে
কৃষিপণ্য পরিবহনে রেলে যুক্ত হচ্ছে ১২৫ অত্যাধুনিক লাগেজ ভ্যান, উথলী ও কালীগঞ্জে অংশীজন সভায় বক্তারা সমীকরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে নতুন সংযোজ হচ্ছে আধুনিক লাগেজ ট্রেন। যা দিয়ে অল্প সময়ে ও স্বল্প খরচে কৃষিজাত পণ্য ও পচনশীল দ্রব্য সারা দেশে পরিবহন করা যাবে। রেলওয়ের বিশেষ এ ভ্যানে কৃষিজাত পরিবহন সংক্রান্ত গতকাল শনিবার জীবননগর উপজেলার উথলী ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উথলী: জীবননগর উথলীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে নতুন সংযোজনতব্য আধুনিক লাগেজ ভ্যানে কৃষিজাত পণ্য পরিবহন সংক্রান্ত অংশীজন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের আয়োজনে গতকাল শনিবার বেলা তিনটায় উথলী রেলস্টেশন চত্বরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম জোনের (রাজশাহী) মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহর সভাপতিত্বে অংশীজন সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি টগর বলেন, ‘আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ নানা ধরনের কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন করে, যা বিক্রি করার জন্য অনেকেই ঢাকার কারওয়ান বাজারে নিয়ে যান। কিন্তু পরিবহন খরচের কারণে অনেক সময় চাষিরা তাঁদের কাঙ্খিত লাভের দেখা পায় না। এই সুযোগটা আদায় করে এক ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী। কিন্তু আমরা যদি ট্রেনের মাধ্যমে এখান থেকে এসব কৃষিপণ্য বহন করে বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে পারি, তাহলে চাষিদের পরিবহন খরচ অনেক কম হবে। সেই সঙ্গে পণ্যগুলোও অনেক ভালো থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘লাগেজ ট্রেন চালু হলে এই এলাকার মানুষ খুব সহজেই এখানকার কৃষি পণ্য আম, পেয়ারা, ড্রাগন ফল, লাউ, কুমড়ো, ধনেরপাতা, পেঁপে, বেগুন, মাছ, দুধ, ডিম ইত্যাদি খুব সহজেই পরিবহন করে আমার এলাকার প্রান্তিক চাষিরা লাভবান হবে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং এই এলাকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেন, ‘এ এলাকার মানুষজন কাঁচামাল বহনের জন্য শুধুমাত্র ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল। পণ্য বহনের জন্য সবচেয়ে কম খরচের মাধ্যম হলো নদীপথ। নদীপথের পরেই কম খরচের মাধ্যম হলো রেলপথ। কিন্তু আপনাদের এলাকায় নদীপথে যোগাযোগের মাধ্যম না থাকায় আপনারা ট্রাকে করে পণ্য বহন করে থাকেন। যাতে পরিবহন খরচ অনেক বেশি হয়। এজন্য আমরা এখান থেকে রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করার ব্যবস্থা চালু করতে চাচ্ছি। তাহলে আপনাদের পরিবহন খরচ অনেক কমে যাবে। এই লাগেজ ভ্যানে সবুজ শাক-সবজি, মৌসুমী ফল, ফুল ও অন্যান্য পচনশীল দ্রব্য (মাছ, মাংস, দুধ) পরিবহনের সুবিধা রয়েছে। আমরা এজেন্টের মাধ্যমে এসব কৃষিপণ্য পরিবহন করব। আশা করি আপনারা এই লাগেজ ভ্যানে এসব পণ্য পরিবহন করলে আগের তুলনায় অনেক লাভবান হবেন।’ সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন, জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম, জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উথলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান, সিনিয়র সহসভাপতি কফিলউদ্দিন কফিল, সাধারণ সম্পাদক মোবারক সোহেল আহম্মেদ প্রদীপসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীবৃন্দ, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, কাঁচামাল উৎপাদনকারী স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মহিউদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রেলওয়ের পশ্চিম অঞ্চলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার আহছান উল্যা ভূঞাঁ। এরপরেই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং উথলী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর। উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার উথলী রেলস্টেশন একটি ঐতিহ্যবাহী রেলস্টেশন। রেলস্টেশনের আশপাশে রেলওয়ের অনেক সম্পত্তি রয়েছে, যা অত্র জেলার আর কোনো স্টেশন এলাকায় নেই। এজন্য উথলী রেলস্টেশন থেকে জীবননগর উপজেলা ও এর আশপাশের এলাকায় উৎপাদিত নানা ধরনের কৃষিজাত পণ্য কম খরচে দেশের বিভিন্ন জেলায় রেলের অত্যাধুনিক লাগেজ ভ্যানে পরিবহনের জন্য এই অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রেনটি খুলনা থেকে ছেড়ে এসে যশোর স্টেশনে থেমে পরবর্তীতে বারোবাজারে আসবে। এই পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে বড় এলাকা হিসেবে বারোবাজারকে ধরা হচ্ছে। তারপরেই ট্রেনটি উথলী স্টেশনে এসে থামবে এমন পরিকল্পনায় ট্রেনটি চালু করা হবে বলে রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। কালীগঞ্জ: ``‘উৎপাদন আর উন্নয়ন আপনাদের রক্তে মিশে আছে। আপনারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল উৎপাদন করেন। আপনাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য দিতে সরকার বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে অত্যাধুনিক লাগেজ ভ্যান চালু করতে যাচ্ছে।’ বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান ঝিনাইদহের বারোবাজার রেলস্টেশনে ফসল উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার দুপুরে বারোবাজার রেলস্টেশনে অনুষ্ঠিত রেলওয়ের বিশেষ এ ভ্যানে কৃষিজাত পরিবহণ সংক্রান্ত অংশীজন সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। সভায় রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেন, খুব দ্রুত খুলনা থেকে দর্শনা পর্যন্ত ডাবল লাইনের কাজ শুরু হবে। এসময় রেলের পতিত জমি দখলমুক্ত করা হবে। এ অঞ্চলের ডাবল লাইন চালু হলে কৃষি ও ব্যবসার প্রসার ঘটবে। তখন রেল যোগাযোগ হবে এ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। যে কারণে খুলনা থেকে ঢাকার পথে কয়েকটি স্টেশনে এই কাঁচা পণ্যবাহী ল্যাগেজ ভ্যানের স্টোপেজ করা হচ্ছে। খুব তাড়াতাড়ি কৃষক পর্যায়ে বৈঠক করা হবে। সেখান থেকে উৎপানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কৃষকদের মতামত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ১২০ কিলোমিটার গতির ১২৫টি পণ্যবাহী ল্যাগেজ চালু করা হবে। যেসব লাগেজের মধ্যে ২৮টি রেফ্রিজারেটেড লাগেজ ভ্যানে পঁচনশীল দ্রব্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের বড় বড় শহরে পরিবহন করা হবে। এসব সবজি পরিবহনের আগে রেলওয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে এজেন্ট নিয়োগ করবে। নির্ধারিত এজেন্টে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ফসল ক্রয়ের পর তা রেলের বিশেষ ভ্যানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিবে। এসব কাজে কৃষকের কোনো ঝুঁকি থাকবে না বলে উল্লেখ করেন রেলওয়ের মহাপরিচালক শামছুজ্জামান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার বলেন, ঝিনাইদহ ও যশোর অঞ্চল প্রচর সবুজ শাক-সবজি, মৌসুমী ফল, ফুল ও অন্যান্য দ্রব্য মাছ, মাংস ও দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। দেশের মোট চাহিদার বড় একটি অংশ যশোর ও ঝিনাইদহ বিশেষ করে বারোবাজার এলাকা থেকে উৎপাদন হয়ে থাকে। কিন্তু কৃষকরা অনেক কষ্ট করে অর্থ দাদন নিয়ে ফসল উৎপাদন করলেও তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। এসব ফসলে লাভবান হয় মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। তাই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের কথা চিন্তা করে রেলওয়েতে এই বিশেষ পণ্যবাহী ভ্যানের ব্যবস্থা করেছেন। গেল ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ রেলওয়ে ও গণচীনের যৌথ কোম্পানি ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান সংগ্রহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরই আলোকে আজকে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। পণ্যবাহী এই বিশেষ রেল ভ্যান চালু হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন। সঠিক সময়ে কম মূল্যে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে কৃষিজাত কাঁচা পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে এদিকে কৃষকরা লাভনাব, হবে অন্যদিকে কৃষিপণ্য পঁচনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. জাহাঙ্গীর সিদ্দিক, ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানীসহ রেলওয়ের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


কমেন্ট বক্স
notebook

উথলীতে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুকন্যা রোজার মৃত্যু