বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আটকে আছে ৮ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স

  • আপলোড তারিখঃ ০৯-০১-২০২১ ইং
আটকে আছে ৮ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স
ঠিকাদার নিয়োগের পরও শুরু হয়নি কাজ, এ বছরও লাইসেন্স না পাওয়ার শঙ্কা সমীকরণ প্রতিবেদন: দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় দুই মাসের বেশি বন্ধ ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যক্রম। আর পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর গত ২৩ আগস্ট শুরু হয়েছে চালকের পরীক্ষা ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার কাজ। কোন প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স সরবরাহের কাজ পাবে, সেটা নিয়ে যে জটিলতা ছিল তা-ও একাধিকবার দরপত্র আহ্বানের পর কেটে গেছে গত বছরের জুলাই মাসে। কথা ছিল ওই বছরের ডিসেম্বরেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার এবং লাইসেন্স নবায়নের কার্যক্রম। কিন্তু সেই কাজ এখনো শুরু হয়নি। ফলে আটকে আছে ৮ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৭টি ড্রাইভিং লাইসেন্স। কবে নাগাদ এই কাজ শুরু হবে, সেটা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না বিআরটিএর কর্মকর্তারা। বিআরটিএ বলছে, জরুরি প্রয়োজনে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে অস্থায়ী অনুমোদনপত্র দেওয়া হচ্ছে। এই অনুমোদনপত্রের মেয়াদ শেষ হলে আবার বাড়িয়ে নিতে হয়। ডুয়াল ইন্টারফেস পলিকার্বনেট স্মার্ট কার্ডে ছাপা ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহের জন্য গত বছরের ২৯ জুলাই ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বিআরটিএ। পাঁচ বছরের জন্য ১২০ কোটি টাকার কাজ পেয়েছে ওই প্রতিষ্ঠান। এ সময়ের মধ্যে ৪০ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে তাদের। ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড আমদানি, পারসোনালাইজেশন সেন্টার, প্রিন্টিং স্টেশন, নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি, অনলাইন ইউপিএস, ডাটা সেন্টার, সার্ভার, স্টোরেজ মেইনটেন, লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য গ্রাহককে এসএমএস পাঠানোসহ সব ধরনের সেবা এই প্রতিষ্ঠানই দেবে। কিন্তু মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স এখনো কেন কাজ শুরু করতে পারছে না, করোনা ছাড়া এর পেছনে আর কোনো কারণ বলতে পারছেন না বিআরটিএর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। বিআরটিএ সূত্র জানায়, করোনার মধ্যেই বেনাপোল বর্ডার দিয়ে প্রিন্টিং মেশিনসহ স্মার্ট কার্ড তৈরির জন্য যা দরকার তার ৮০ শতাংশ যন্ত্র ভারত থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। এখন এগুলো স্থাপনের জন্য লোক আসবে। সফটওয়্যার তৈরি করবে। তার পরই ছাপা শুরু হবে। ২০১৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য ১৫ লাখ কার্ড সরবরাহের দায়িত্ব পায় বর্তমানে লাইসেন্স সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি। কিন্তু চাহিদার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই ১৫ লাখ লাইসেন্স প্রিন্ট দিতে হয়। এর মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্র্বতী দায়িত্ব দিয়ে বাড়তি কার্ড নিতে পারেনি বিআরটিএ। ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় জট শুরু হয়। বিআরটিএ ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে ইলেকট্রনিক চিপযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া শুরু করে। বর্তমানে ২৭ লাখ ২২ হাজার স্মার্ট লাইসেন্সধারী চালক আছেন। আর প্লাস্টিক কার্ড রয়েছে প্রায় এক লাখ চালকের। ২০২১ সালেও ড্রাইভিং লাইসেন্স মিলবে কি না, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবু হুরাইরা শাকিব নামের এক ব্যক্তি। সম্প্রতি ‘বিআরটিএ তথ্যকেন্দ্র’ নামের একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে শুধুই ঘুরছি। তারিখ ছাড়া আর কিছুই মিলছে না। ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছিলাম। ছয় মাসের মধ্যে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার কথা ছিল। এখন আবার নতুন করে ডেট পেলাম ২০২১ সালের ৪ ডিসেম্বর। এভাবে যে আর কত দিন ঘুরতে হবে, তা জানি না।’ মাহমুদ ইকবাল বলেন, ‘২০১৯ সালের শুরুর দিকে আমার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়। তারপর নবায়ন করতে দিয়ে আজও কার্ড পাইনি। পুলিশ আটকালে স্লিপ (অনুমোদনপত্র) দেখাতে হয়। এটা এক ধরনের বিরক্তির বিষয়।’ বিআরটিএর ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রকল্পের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কিছুদিন আগে এক সভায় বলেছেন ফেব্রুয়ারি থেকেই জমে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার কাজ শুরু হবে। নিশ্চয় তখন থেকে কাজ শুরু হবে। লাইসেন্স ছাড়া অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারছে না, এমন কথার বিপরীতে বিআরটিএর পরিচালক শীতাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স একেবারেই দেওয়া হচ্ছে না, তা কিন্তু নয়। যাদের খুব জরুরি দরকার তাদের দেওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি কিভাবে নির্ধারণ হয়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা বিদেশে যাবে, চাকরির আবেদন করবে বা গাড়ি চালানোই যাদের পেশা, তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে। শীতাংশু শেখর আরো বলেন, ‘যারা নতুন লাইসেন্স বা নবায়নের জন্য আবেদন করেছে তাদের যেন সড়কে ভোগান্তি না হয় সে জন্য আমরা পুলিশকে চিঠি দিয়েছি। যারা ড্রাইভিং টেস্টে পাস করেছে, তাদের অস্থায়ী অনুমোদনপত্র দেওয়া হয়েছে। সেই অনুমোদনপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবার নবায়ন করা যাবে।’ লাইসেন্সবিহীন চালকের মানসিকতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেছে নিরাপদ সড়ক চাই নামের একটি সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ। তিনি বলছেন, চলমান জটিলতার কারণে গাড়ির সংখ্যার চেয়ে অনেক পিছিয়ে লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা। বিআরটিএর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সারা দেশে নিবন্ধিত মোটরযান রয়েছে ৪৫ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক পরিবহন খাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রায় এক লাখ অদক্ষ চালক বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানসহ ভারী যানবাহন চালাচ্ছে। আর মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ চালকের লাইসেন্স নেই। বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘আমি এসেই নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এর সুফল খুব দ্রুতই পাওয়া যাবে। শিগগিরই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার কাজ শুরু হবে। সে অনুযায়ী সমস্ত কাজ চলছে। এই জটিলতা বেশি দিন থাকবে না।’ শিগগিরই বলতে কত দিন, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।


কমেন্ট বক্স
notebook

উথলীতে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুকন্যা রোজার মৃত্যু